বিপুল বিনিয়োগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে মোট ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নেওয়া এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তি খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটানো। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও এসব পার্ক থেকে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাতের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি।
সাম্প্রতিক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পের ব্যর্থতার পেছনে দক্ষ জনবলের অভাব, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা, উচ্চ পরিচালন ব্যয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ঘাটতি বড় ধরনের বাধা হিসেবে কাজ করেছে। ‘হাইটেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক এই সভায় তারা আরও উল্লেখ করেন, জেলাভিত্তিক হাইটেক পার্ক প্রকল্পগুলোর সাত বছরে মাত্র ১৪ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে, যা হতাশাজনক।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম রোকনুজ্জামান মনে করেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ধারণাটিই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো যেভাবে শিল্পখাত, গবেষণা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির সমন্বয়ে প্রযুক্তির ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে, বাংলাদেশ সেভাবে এগোতে পারেনি। বিশেষ করে পার্কগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় স্থাপন করায় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়নি, যা ব্যর্থতার আরেকটি অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
পার্কগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে উদ্যোক্তারাও সরব হয়েছেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত যশোর হাইটেক পার্কে বর্তমানে প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা না করে কেবল ভাড়াটিয়া হিসেবেই দেখছে। কার্যকর কোনো ইকোসিস্টেম বা সহায়ক অবকাঠামো ছাড়া শুধু জায়গার বরাদ্দ দিয়ে যে সুফল পাওয়া যায় না, তা এখন স্পষ্ট বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী হাইটেক পার্কের পরিস্থিতিও ভিন্ন নয়। নেট্রো সিস্টেমস লিমিটেডের মো. আশাফুদ্দোজা শিশির জানান, সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জিত বৈশ্বিক সাফল্যের বিপরীতে পার্ক কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো সরাসরি সহায়তা নেই; তাদের প্রাপ্ত সুবিধা মূলত কর অব্যাহতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। একই সুর শোনা গেছে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের ক্ষেত্রেও। ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের ফারহানা এ রহমান জানান, কালিয়াকৈর পার্কেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সেবা ছাড়াই শুধু জমির প্লট দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অনেক উদ্যোক্তাই তাদের বরাদ্দ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, হাইটেক পার্কের এই মডেল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য পেতে হলে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের ওপর অতিমাত্রায় গুরুত্ব কমিয়ে সফট অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, উদ্যোক্তাদের শুধু ভাড়ার আওতায় না রেখে তাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং জবাবদিহিমূলক সুশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা: বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন মাইক্রোবাসে, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৪। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হাইটেক পার্ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাহিদামতো মিলছে না সার, কুড়িগ্রামে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জামালপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাটি খুঁড়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জেলা হাইটেক পার্ক প্রকল্পে ৭ বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, হাইটেক পার্ক সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাত্রা বিবেচনায় না নিয়েই এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।















