যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করার সময় ক্রেতাদের বাজেট, পরিবারের আকার এবং গাড়ি ব্যবহারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা প্রয়োজন। নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে টয়োটা করোলা ও হোন্ডা সিভিক ছোট আকারের সেডান হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ২০২৬ সালের টয়োটা করোলার প্রাথমিক মূল্য ২৩ হাজার ১২৫ ডলার থেকে শুরু হয়, যেখানে করোলা হাইব্রিড মডেলের দাম শুরু হয় ২৪ হাজার ৯৭৫ ডলার থেকে। অন্যদিকে, হোন্ডা সিভিকের ২০২৬ সালের সেডান মডেলের প্রাথমিক মূল্য ২৪ হাজার ৬৯৫ ডলার এবং সিভিক হাইব্রিড মডেলের দাম শুরু হয় ২৯ হাজার ৩৯৫ ডলার থেকে। সাশ্রয়ী নতুন গাড়ির তালিকায় নিসান সেন্ট্রাও একটি ভালো বিকল্প, যার প্রাথমিক মূল্য ২২ হাজার ৮৯০ ডলার থেকে শুরু।
মাঝারি আকারের সেডান খুঁজলে ২০২৬ সালের হোন্ডা অ্যাকর্ড একটি নির্ভরযোগ্য পছন্দ হতে পারে। এর প্রাথমিক মূল্য ২৮ হাজার ৩৯৫ ডলার এবং হাইব্রিড সংস্করণের দাম শুরু হয় ৩৩ হাজার ৭৯৫ ডলার থেকে। এছাড়া বড় পরিবারের জন্য এসইউভি বা স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বেশ কার্যকর। টয়োটা আরএভি৪-এর ২০২৬ সালের মডেলের প্রাথমিক মূল্য ৩১ হাজার ৯০০ ডলার, যা বিভিন্ন সুবিধা ও মডেলভেদে ৪৩ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নতুন আরএভি৪ মডেলে হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণও বাজারে রয়েছে।
পুরাতন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দাম নির্ধারণ করা কঠিন। একই বছরের একই মডেলের গাড়ির দাম মাইলেজ, দুর্ঘটনার ইতিহাস, রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ড এবং মালিকানার কাগজপত্রের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের পুরাতন গাড়ি কেনার সময় কেবল বিক্রেতার দেওয়া দামের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। ক্রেতাদের অবশ্যই গাড়ির পরিচয় শনাক্তকারী নম্বর বা ভিআইএন যাচাই করা এবং গাড়ির ইতিহাস পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে কারখানা অনুমোদিত ব্যবহৃত গাড়ি বা সার্টিফাইড প্রি-ওনড গাড়িগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে, কারণ এগুলো কঠোর মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হয় এবং অনেক সময় অতিরিক্ত ওয়ারেন্টি সুবিধা পাওয়া যায়।
গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু মূল দাম নয়, বরং আনুষঙ্গিক খরচগুলোও হিসাবের মধ্যে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে মাসিক কিস্তি, বিক্রয় কর, নিবন্ধন ফি, বীমা, জ্বালানি খরচ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্ভাব্য মেরামতের ব্যয়। বিশেষ করে বীমার খরচ চালকের বয়স, ড্রাইভিং রেকর্ড, বসবাসের এলাকার জিপ কোড এবং গাড়ির মডেলের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
নতুন প্রবাসীদের জন্য শুরুতে কম দামে পুরাতন গাড়ি কেনা লাভজনক মনে হতে পারে, তবে গাড়ির বয়স বেশি হলে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ঝামেলা কমায়। তাই ২০২৬ সালে গাড়ি কেনার সময় সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী খরচের বিষয়টি মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা জ্বালানি খরচ কমাতে চান, তাদের কাছে হাইব্রিড মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজের বাজেট অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য পুরাতন গাড়ি নাকি নতুন গাড়ি, কোনটি বেশি সুবিধাজনক হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।















