Friday , 23 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

রেমিট্যান্সের সিংহভাগই চলে যায় দৈনন্দিন খরচে

প্রতিবেদক

October 23, 2026 7:12 am

কয়েক দশক ধরে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ও দারিদ্র্য বিমোচনে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রতি বছর কাজের সন্ধানে যেসব প্রবাসী শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছেন, তাঁদের সিংহভাগই গ্রাম থেকে উঠে আসা সাধারণ মানুষ। ফলে প্রবাসী আয়ের বড় অংশটিই পৌঁছায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত এই অর্থ দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটালেও এর সিংহভাগই খরচ হয়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পারিবারিক ভোগ ও দৈনিক চাহিদায়। খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত, মুঠোফোন কিংবা গৃহস্থালি পণ্য কেনাকাটাতেই রেমিট্যান্সের প্রধান অংশ ব্যয় হয়ে যায়, ফলে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য উদ্বৃত্ত কিংবা উৎপাদনশীল বিনিয়োগের সম্ভাবনা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। গ্রামেই আসছে রেমিট্যান্সের বেশির ভাগ। খাবার, যাতায়াত, জামাকাপড়, মুঠোফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটায় চার ভাগের তিন ভাগ টাকা খরচ করে ফেলেন বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানে ব্যয় পরিবারের জীবনমান উন্নত করে এবং দেশের ভেতরে চাহিদা বাড়ায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে। কেউ আবার ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক কিংবা প্রযুক্তিবিদ।

পরিবার পরিচালনায় নারীর ভূমিকা ও বিবিএসের তথ্যচিত্র

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারের আর্থসামাজিক কাঠামো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সংসার পরিচালনার দায়িত্ব বহুলাংশে নারীর কাঁধে ন্যস্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, প্রবাসী আয় গ্রহণ করে এমন পরিবারগুলোর প্রায় ৫২ শতাংশের প্রধানই একজন নারী। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দেশের বাইরে থাকায় পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সন্তান লালন-পালন ও গৃহস্থালি আর্থিক সিদ্ধান্তের ভার তাঁদের ওপরই পড়ে। এমন পরিবারের যে অর্থ প্রবাস থেকে আসে, তার পুরোটাই খরচ করার দায়িত্ব পড়ে পরিবারের প্রধানতম সদস্য নারীর ওপর।

বিবিএসের সমীক্ষায় প্রবাসীদের আয়ের বিনিয়োগ ও সঞ্চয় প্রবণতা নিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির উপাত্ত অনুযায়ী, প্রবাসী আয় পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ কোনো ধরণের আর্থিক বিনিয়োগই করে না। আর প্রবাসীদের অর্থ সম্পূর্ণ খরচ করে ফেলার পর মাত্র ৪১ দশমিক ৭১ শতাংশ পরিবার কোনোমতে কিছু সঞ্চয় করতে সমর্থ হয়। সরকারি এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ সরাসরি তাৎক্ষণিক ভোগেই নিঃশেষিত হচ্ছে। বিবিএসের সমীক্ষা অনুযায়ী, যত পরিবার প্রবাসী আয় পায়, তাদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ কোনো বিনিয়োগ করে না। কিন্তু বিনিয়োগ পরিবেশ না দিলে তা কীভাবে বিনিয়োগে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি: ড. জাহিদ হোসেন ও ড. ফাহমিদা খাতুন

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রবাসীদের আর্থিক চিত্র ব্যাখ্যা করে জানান, সাধারণত দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকা পরিবারগুলোই প্রধানত বিদেশে গিয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকে। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রবাসী আয়ের মাত্র ২৫ শতাংশের মতো বিনিয়োগযোগ্য অর্থ হিসেবে উদ্বৃত্ত হিসেবে অবশিষ্ট থাকে, যা সামগ্রিক জাতীয় অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের আনুপাতিক হারের প্রায় সমান। তিনি মনে করেন, এই অতিরিক্ত অর্থ যাতে টেকসই খাতে রূপ নিতে পারে, তার জন্য প্রবাসীদের জন্য উপযুক্ত খাত ও পরিকল্পনা জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট পরিবার সাধারণত সঞ্চয় হিসেবে ব্যাংকে রাখে। তবে, প্রবাসী আয়ের ২৫ শতাংশের মতো বিনিয়োগযোগ্য অর্থ হিসেবে উদ্ব‍ৃত্ত থাকে; এটা জাতীয় অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের আনুপাতিক হারের সমান।’।

অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন দৈনন্দিন খরচে রেমিট্যান্সের সিংহভাগ ব্যয়কে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করে বলেন, রেমিট্যান্সের অর্থ পরিবারগুলোর ভোগ, খাদ্য ও স্বাস্থ্যগত দৈনিক প্রয়োজনে ব্যয় হওয়াটা মোটেও নেতিবাচক কোনো বিষয় নয়। তবে সমস্যা দাঁড়ায় দীর্ঘমেয়াদে। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কম হলে বিদেশে থাকা শ্রমিকের আয় কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিবার মারাত্মক আর্থিক ঝুঁকিতে পড়ে। একই সাথে জাতীয় অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা হারায়।

স্থানীয় আর্থিক শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশের গুরুত্ব

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও তুলে ধরেন যে, যেহেতু প্রবাসী আয় গ্রহণকারী পরিবারগুলোর প্রায় ৫২ শতাংশের প্রধান নারী, সেহেতু তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। নারী প্রধানদের জন্য স্থানীয়ভাবে আর্থিক শিক্ষা প্রদান, ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ, সহজ ও নিরাপদ সঞ্চয় হিসাব খোলা এবং নারী উদ্যোক্তাদের উপযোগী ঋণ সুবিধা চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এটি একদিকে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করবে, অন্যদিকে অপচয় রোধে সাহায্য করবে। কেউ নির্মাণশ্রমিক, কেউ রেস্তোরাঁকর্মী, কেউ চালক, কেউ কৃষিশ্রমিক।

নিরাপদ, স্বচ্ছ, সহজে বোঝা যায় এবং যুক্তিসংগত মুনাফা দেয়—এমন বিনিয়োগের ক্ষেত্র ও সুযোগ বাংলাদেশে সীমিত হওয়াও প্রবাসীদের অ-বিনিয়োগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারকে প্রবাসীদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আর্থিক নীতি, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) ঋণপ্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করা। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বচ্ছ বিনিয়োগ পণ্য তৈরি করা দরকার। বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পরিবারই নেবে; সরকারের দায়িত্ব হবে ঝুঁকি কমানো ও কার্যকর সুযোগ তৈরি করা।’।

পারিবারিক ব্যয়ের বাস্তব চিত্র ও বাৎসরিক রেমিট্যান্সের হিসাব

সরকারি জরিপ সংস্থা বিবিএসের তথ্যানুসারে, দেশের প্রতিটি পরিবারের বছরে গড় প্রবাসী আয় ২ লাখ ১০ হাজার ৫৪ টাকা। পরিসংখ্যানের আরও দেখা যায়, প্রতি বছর গড়ে ১ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রবাস থেকে পাঠান ১৫ শতাংশ কর্মী, আর ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পাঠিয়ে থাকেন প্রায় ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রবাসী কর্মী। সরকারি হিসাবে দেখা যায়, প্রবাসীদের ৮ শতাংশের বেশি মানুষ গড়ে ২৫ হাজার টাকা পাঠান প্রতি বছরে। ২৫ হাজার থেকে ৪৯ হাজার টাকা পাঠান ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৫০ হাজার থেকে ৯৯ হাজার টাকা পাঠান ১২ শতাংশ। প্রতি বছর গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পাঠান ১৫ শতাংশ প্রবাসী, দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পাঠান ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পাঠান ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ৩ থেকে ৪ লাখ গড়ে পাঠান ১৩ শতাংশ এবং ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পাঠান ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রবাসী।

যদি এই অর্থই কোনো পরিবারের প্রধান বৈদেশিক উপার্জনের উৎস হয়, তাহলে বছরজুড়ে এই আয় দিয়ে মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হাঁসফাঁস করতে হয়। একজন প্রবাসীর পরিবারে প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা কেবল খাবার ও বাজার খরচেই চলে যায়। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, মোবাইল ও ইন্টারনেট বিল বাবদ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা, সন্তানের পড়াশোনার খরচ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচ ২ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ও অন্যান্য দৈনিক খরচে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। মায়ের চোখে পানি, বাবার নীরব দোয়া, স্ত্রীর উৎকণ্ঠা, সন্তানের প্রশ্ন- ‘বাবা কবে ফিরবে?’।

ফলে, মাসে ৩৩ হাজার টাকার কিছু বেশি রেমিট্যান্স এলেও নিয়মিত ব্যয়ের পর হাতে থাকে তুলনামূলকভাবে সামান্য অর্থ। কোনো কোনো মাসে সঞ্চয় সম্ভব হলেও অন্য মাসে সেই সঞ্চয়ও ভেঙে চিকিৎসা, শিক্ষা, বিয়ে, ঘর মেরামত কিংবা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে খরচ হয়ে যায়। অর্থাৎ বছরে ৪ লাখ টাকা রেমিট্যান্স পাওয়া একটি পরিবারের ক্ষেত্রে সব অর্থকে নিছক ভোগবিলাসের টাকা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর বড় অংশই পরিবারের মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে চলে যায়।

তবে যদি বছরে অন্তত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পরিকল্পিতভাবে সঞ্চয় করা যায় এবং তার একটি অংশ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে নেওয়া যায়, তাহলে একই রেমিট্যান্স ভবিষ্যতে পরিবারের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিপরীতে পুরো ৪ লাখ টাকা যদি বছর শেষে খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্য ও অন্যান্য ভোগব্যয়ে শেষ হয়ে যায়, তাহলে প্রবাসী সদস্যের দীর্ঘ বছরের শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ পরিবারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটালেও ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে না।

প্রবাসীদের জীবনসংগ্রাম ও জাতীয় অবদান

বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যখন বিদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন, তিনি তখন শুধুই একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি পুরো পরিবারের ভবিষ্যতের কাণ্ডারী। প্রবাসীরা জীবনযাত্রার কঠিন বাস্তবতা, ভিন্ন সংস্কৃতি, কঠিন পরিশ্রম ও অচেনা পরিবেশ মোকাবিলা করে বিদেশে রেস্তোরাঁ, নির্মাণক্ষেত্র কিংবা কারখানাগুলোতে কাজ করেন। দেশের বাইরে থাকলেও তাঁদের মন ও শ্রম পড়ে থাকে বাংলাদেশে। ঈদ কিংবা উৎসবের মতো আনন্দঘন মুহূর্তগুলোতে প্রবাসীরা নিজেরা কষ্ট সহ্য করে দেশে অর্থ পাঠান যেন প্রিয়জনেরা একটু সুখে দিন কাটাতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একজন মানুষ যখন বিমানবন্দরের গেট দিয়ে বিদেশের উদ্দেশে বেরিয়ে যান, তখন তিনি শুধু একজন যাত্রী নন। তার কাঁধে থাকে একটি পরিবারের দায়িত্ব, চোখে থাকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর বুকের ভেতর থাকে দেশ ছাড়ার অদৃশ্য কষ্ট। সবকিছু পেছনে ফেলে তিনি পাড়ি জমান অচেনা এক দেশে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে প্রবাসীদের এই অবদানের বিরাট প্রভাব দৃশ্যমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের ব্যাংক ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।

বিমানবন্দর হয়রানি, প্রশাসনিক সেবা ও মৃত্যুর বেদনাদায়ক অধ্যায়

জাতীয় অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখার পরেও বিমানবন্দরে যাতায়াতকালে প্রবাসীদের প্রায়ই চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ, দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও নানা প্রশাসনিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি ব্যবস্থায় বিমানবন্দরে ‘প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক’ এর মাধ্যমে বিভিন্ন সহায়তার বিধান রাখা হলেও বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে বলে প্রবাসীদের অভিযোগ। একই সাথে বিদেশের মাটিতে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলার মিশনগুলোতে প্রবাসীরা জরুরি বিপদে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পেতে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। যদিও সম্প্রতি সরকার এসব অভিযোগ দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল গঠন করেছে, তবে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও প্রয়োজন।

প্রবাসী জীবনের সবচেয়ে করুণ ও হৃদয়বিদারক অধ্যায় হলো বিদেশের মাটিতে কোনো কর্মীর অকাল মৃত্যু। ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে প্রবাসী কর্মী মারা গেলে তাঁর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে সহকর্মী ও প্রবাসীরা নিজেরা চাঁদা তুলে সেই মৃতদেহ পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

যদিও সরকারি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অধীনে প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীর লাশ দেশে আনয়ন এবং বিমানবন্দরে নামার পর পরিবারকে পরিবহন ও দাফন কাজের জন্য ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিধান চালু রয়েছে। তবে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আন্তর্জাতিক ট্রানজিটে ব্যয় হয়, তার তুলনায় বিদ্যমান সরকারি অনুদান বা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো জরুরি। সরকারকে প্রবাসীদের প্রবাস জীবনের প্রতিটি ধাপে আরও সম্মান, পর্যাপ্ত আইনি সেবা ও সুরক্ষিত বিনিয়োগ ব্যবস্থার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে, যাতে তারা কেবল টাকা পাঠানোর মাধ্যম হয়ে না থাকেন। আর দেশে তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ নিকটাত্মীয়রা থাকেন।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক