নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই দুই দিনের সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শনিবার বেইজিং থেকে রওনা হন তিনি। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রায় সাত বছর পর এটি শি জিনপিংয়ের ভারত সফর।
সফর শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো ‘যথাযথভাবে’ সামলাতে কাজ করবে। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং শুক্রবার রাতে এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, দুই দেশের নেতারা কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তিনি জানান, চীন ও ভারত প্রেসিডেন্ট শি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করছে। আজ শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং আরও বলেন, কাজান ও তিয়ানজিনে বৈঠকের পর টানা তৃতীয় বছরের মতো দুই নেতা মুখোমুখি আলোচনায় বসছেন। চীন ও ভারতকে ভালো প্রতিবেশী এবং পরস্পরের সাফল্যে অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, বেইজিং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় বিরোধগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। সীমান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘ সময় সম্পর্ক শীতল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পথে। কাজান ও তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল অফিসের পরিচালক চাই ছি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ভারত ও চীন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ব্রিকস সম্মেলনের এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শু ফেইহং আরও বলেন, চীন ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি মতপার্থক্যগুলোও যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে চায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি ইতিমধ্যে বেইজিং ছেড়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ভারত ও চীন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফরে আসবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার অবসান হয়েছে।














