নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ঠামেলে অভিযান চালিয়ে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতদের বয়স ২৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের বাড়ি বাংলাদেশের গাজীপুর সদর ও গাছাবাড়ি পুলিশ স্টেশন এলাকায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা ঠামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমান থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, এমডি কেরামত আলী খান, শহিদুর রহমান, এমডি খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান এবং এমডি মারুফ মৃধাসহ মোট ১০ জন।
নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ধাকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি অবৈধভাবে নেপালে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে মারামারিতে জড়ানো এবং ভিসার শর্তের বাইরে গিয়ে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, এই পুরো ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট খাতুন-ই-জান্নাত নামের আরেক বাংলাদেশি নারী বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, অতীতেও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে তরুণদের উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নেপালে নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। তবে বর্তমান আটক ১০ জনের সঙ্গে সেই পুরনো অভিযোগগুলোর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।














