Friday , 23 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ বাঁওড়ের উন্নয়নে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রতিবেদক

October 23, 2026 11:37 am

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলার ২৯টি বাঁওড়ের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নত করতে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর প্রণীত ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এই পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাছের উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা। বাঁওড়ের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবিকা সমৃদ্ধ করতে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প। ওই সভায় সভায় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

প্রকল্পটির আওতায় যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন বাঁওড় খনন, মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন অবকাঠামো তৈরি ও সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় ও কার্যক্রম মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আড়াইশ তাড়াতেই বিপদ, তিন শ তাড়ার প্রস্তুতি চান বাশার।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে যশোরের জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং পরবর্তীতে অর্থ বিভাগের জনবল কাঠামো সংক্রান্ত অনুমোদন শেষে এটি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের বাজেটের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বাঁওড়ের নির্বাচিত অংশ খননের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোর গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, যা শুষ্ক মৌসুমেও মাছের বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে। এছাড়া দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে ২৯টি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমেও মাছের বসবাস ও বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে জরাজীর্ণ ছয়টি বাঁওড় ব্যবস্থাপক অফিস ভবন পুনর্নির্মাণে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা খরচ হবে। পাশাপাশি খামার যান্ত্রিকীকরণে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং পানি সরবরাহের জন্য ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া পোনা লালন-পালনের জন্য পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, যার জন্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে রুইজাতীয় ও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণেও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংস্থান রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে যাতে প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত না হয়, আর বর্ষা মৌসুমে মাছ নদী ও বিলে ছড়িয়ে পড়লে জেলেরা সুফল পাবেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক বলেন, এটি একটি সমাজভিত্তিক প্রকল্প যা দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণ করবে। অনেক বাঁওড় পলি জমে অগভীর হয়ে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রকল্পের দাপ্তরিক কাজের জন্য চারটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ ও চারটি প্রিন্টারসহ সরঞ্জাম খাতে আট লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, একই সময়ে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং একদিনে ৩ জনের মৃত্যুসহ হাসপাতালে ১২৯৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২১৪ জনে। পাশাপাশি সাজেক সড়কে অবরোধের কারণে রিসোর্টের ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সবজি রপ্তানি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক