ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা ৬৬৬ কোটি টাকা কর আপাতত পরিশোধ করতে হচ্ছে না। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই বকেয়া কর আদায়ের প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার (১৮ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে।
এর আগে চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি রায়ে এনবিআরের দাবি করা এই বিশাল অংকের কর পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় জারি করা রুল খারিজ করে ওই রায় দিয়েছিল আদালত। প্রসঙ্গত, ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআর এই কর দাবি করে। এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে।
উল্লেখ্য যে, এই আইনি লড়াইয়ের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু নাটকীয় মোড় ছিল। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটগুলো খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। তবে পরে ২৯ আগস্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি ওই রায় থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। কারণ হিসেবে জানা যায়, ওই বিচারপতি অতীতে সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে নথিগুলো প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় এবং মামলাটি নতুন বেঞ্চে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বর্তমান স্থগিতাদেশের ফলে আপিল শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কর আদায়ের বিষয়টি স্থগিত থাকবে।














