Thursday , 22 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

নিউইয়র্কে প্রবাসীদের দুর্গোৎসবে জোহরান মামদানি: অসুরেরা থেমে নেই’

প্রতিবেদক

October 22, 2026 5:29 am

যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ কাঠামোয় বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ওঁম শক্তি মন্দিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত দুর্গাপূজার সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। মামদানি স্পষ্টতই সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অসুরেরা কখনোই থেমে থাকে না, তাই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সব সময় সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেবীর আরাধনার মাহাত্ম্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা মূলত অশুভ বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়। তাঁর মতে, দেবী দুর্গার আরাধনা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ নয়, অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয় এবং শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠারও প্রতীক। সেই বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দুর্গোৎসবে সমবেত হন।

মন্দিরে পৌঁছালে মেয়র জোহরান মামদানিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ওঁম শক্তি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা গৌরাঙ্গ কুন্ডু, মন্দির কমিটির সভাপতি স্বরূপ সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ পাল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মেয়রকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। এই সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ভক্তরা মেয়রের উপস্থিতিকে সম্প্রীতির মেলবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাঙালি হিন্দুদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে নিউইয়র্কের মতো বৈচিত্র্যময় শহরে আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন দীনেশ মজুমদার। তিনি জানান, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমেই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে সনাতন ধর্মের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। টাইমস স্কয়ার দুর্গোৎসব আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উৎসবের অংশ হিসেবে ১০ ও ১১ অক্টোবর ফাদার ডাফি স্কয়ারে পূজা, অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুর খেলা এবং ধুনুচি নাচসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সেই রেশ ধরেই পরবর্তীতে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর টাইমস স্কয়ার এলাকায় আরও একটি দুর্গোৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসবের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য এবং বহুজাতিক নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব। বহুজাতিক এই শহরকে আরও বর্ণাঢ্য ও সমৃদ্ধ করে তুলতে বাংলাদেশি হিন্দুদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বাস্তবতায় দুর্গোৎসবের মতো আয়োজন ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শেকড়ের সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। টাইমস স্কয়ারসহ কুইন্স, ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটান ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম বাংলা ভাষা, বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার এবং সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। সম্প্রীতির বার্তা আয়োজকদের অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার, অধ্যাপক দ্বীজেন ভট্টাচার্য, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য শেকর কৃষ্ণান এবং আয়োজকদের অন্যতম দীনেশ মজুমদার। প্রবাসজীবনে এই প্রতীকী তাৎপর্য নতুন মাত্রা পায়। ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে উৎসব হয়ে ওঠে পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার উপলক্ষ।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত