সৌদি আরবের ওপর হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে দেশটিতে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা, কারিগরি কর্মী এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা করছে আঙ্কারা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব শিগগির তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।
এর আগে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের এক যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়, মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির অঙ্গীকারগুলো কার্যকর করতে তারা সম্মত হয়েছে। এর ফলে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য সামরিক সক্ষমতা সৌদি আরবে পাঠানো হবে। তুর্কি প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মুরাত ইয়েসিলতাশ জানান, আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই তুর্কি পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিলটি আলোচনার জন্য তোলা হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সহায়তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তুরস্কের নেই বলে জানানো হয়েছে।
তুরস্কের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত বছর থেকেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় আঙ্কারা কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে। বর্তমান নতুন পরিকল্পনায় সেখানে অভিজ্ঞ পাইলট ও যুদ্ধসক্ষম সেনা সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব রয়েছে। ২০১০ সালের দ্বিপাক্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় সীমিত সেনা আগে থেকেই পাঠানোর সুযোগ থাকলেও, এবার নতুন করে কমান্ড ঘাঁটি স্থাপনের মতো বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তি অনুযায়ী কারিগরি কাজে সহায়তার জন্য আঙ্কারা সীমিতসংখ্যক সেনা সৌদি আরবে পাঠাতে পারে।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশ, রিয়াদ এবং পবিত্র শহরগুলোর সুরক্ষায় তুরস্ক এই সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ ঘাঁটির পাশাপাশি তুর্কি কমান্ড ইউনিটের জন্য একটি আলাদা ঘাঁটিও থাকবে। পার্লামেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পর বিশেষ বাহিনীর সদস্য ও বিমান মোতায়েন করা হবে। তবে ঠিক কতজন পাইলট বা কী পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। রিয়াদ, পবিত্র দুই শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সুরক্ষা।
তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। দেশটির সরকার এখনো মনে করে যে, আগামী কয়েক মাসে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইয়েমেন সংকটের সমাধান সম্ভব। তাই বর্তমান সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রিত ও কৌশলগত পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। এই কৌশলের মাধ্যমে আঙ্কারা সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।















