অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তা করার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতির কেবল শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্কের টাইম টেলিভিশনের একটি টকশোতে তিনি দাবি করেন, দেশের মঙ্গল কামনা না করা পর্যন্ত সারা বিশ্বে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ড. ইউনূসের এই পরিণতির কারণ তার নোবেল বিজয়ী পরিচয় নয়, বরং গত দুই বছরে তার নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ফল।
সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, ড. ইউনূস অসাংবিধানিকভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন এবং বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূসের নির্দেশে রাজধানীর ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় জড়িতদের ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার শাসনামলে লাখের বেশি দলীয় নেতাকর্মীকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে এবং দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে ছাত্র সংগঠনটি বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে হয়েছিল, সেই ছাত্র সংগঠনকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
তারেক রহমানের সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, যারা তার সফরসঙ্গী হয়ে আসবেন তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ আগেই দেওয়া হয়েছিল। ড. ইউনূসের প্রতি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ক্ষোভের কারণ হিসেবে তিনি তার অতীত কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, সরকারি দল ও এর অনুসারিদের ওপর চালানো নির্যাতন, দলীয় নেত্রীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ এবং নেতাকর্মীদের হয়রানির কারণে দেশের বাইরেও এই ধরনের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তিনি এটিকে মব কালচার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ড. ইউনূস মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও নেতাকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে এই আক্রোশের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। এই সেই ব্যক্তি, যার ওপর আজকে ঘটনাটি ঘটেছে, নট নোবেল লরিয়েট, সারা পৃথিবীতে যাকে নিয়ে আমরা অনেকে গর্ব করি, তাকে না, ওই ব্যক্তিটি—যিনি এই কাজগুলো করেছেন।’।
টকশোতে সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আইনের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূসকে যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে তা মূলত গত দুই বছরের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন যে, যারা দেশ ধ্বংস ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত তাদের সবারই এই পরিণতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসা বা দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন যে, পরিস্থিতি সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। তবে তিনি হুশিয়ারি দেন যে, যতদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে না আসবে এবং নেতারা কারাগার থেকে মুক্ত না হবেন, ততদিন এই অস্থিরতা চলতেই থাকবে। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘ওনার (ড. ইউনূস) আজ যে পরিণতি ঘটেছে—এটা কিন্তু উনি যে ড. ইউনূস বা নোবেল লরিয়েট সে জন্য হয়নি।’।
আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, তাদের কেন ক্ষমা চাইতে হবে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের দায়ভার কমিশনের মাধ্যমে নির্ণয় করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল ইনডেমনিটি দেয়নি বরং বর্তমান সরকার তা দিয়েছে। সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, ড. ইউনূস ব্যক্তি আক্রোশ থেকে আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত করতে গিয়ে পুরো দেশকেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি দলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি জানান।















