ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ধরনের অনুশোচনা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল শো’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক লরা ইনগ্রাহামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি অনুশোচনা শব্দটিতে বিশ্বাস করি না।’ ট্রাম্পের মতে, মানুষ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা চিন্তাভাবনা করা স্বাভাবিক হলেও, তিনি যদি পুনরায় একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তবে ঠিক একই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবেন।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে বিচলিত নন। বরং তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান আসন্ন এই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা মূলত কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে নিজের সমর্থকদের মনোবল ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাকেও নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্যমতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বিষয়টি নিয়ে তাঁর সমর্থকেরা বরং গর্বিত। যদিও ইরানের দাবি, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। এই সংঘাতের ফলে লেবানন ও ইরানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য। তিনি তাঁর নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি শতভাগ অটল ও আত্মবিশ্বাসী বলে সাক্ষাৎকারে পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাকে যদি আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতে হতো, আমি যা করেছি, ঠিক সেটিই করতাম।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না, তাঁরা হতাশ।














