Sunday , 18 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

চকবাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ড: ঝুঁকি মোকাবিলায় কেন ব্যর্থ প্রশাসন

প্রতিবেদক

October 18, 2026 9:03 am

রাজধানীর অন্যতম প্রধান পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র চকবাজার। সরু অলিগলি এবং গাদাগাদি করে গড়ে ওঠা বড় বড় ভবনের কারণে এলাকাটি যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর সোমবার বিকেলে চকবাজারে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আবারও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করেছে। তবে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছানোর ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি ছিল স্পষ্ট। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দুই মিনিটের দূরত্বে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থাকলেও অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর গাড়ি পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণের সুযোগ পায় এবং অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকে বাঁচার তাগিদে বহুতল ভবনের কাঁচের দেয়াল ভেঙে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বা মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। যেখানে বড় বড় ভবনও অনেকটা ঘুপচির মতোই। দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতায় জমাট থাকে পুরো চকবাজার। মুঘল আমল, ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল থেকে হালের বাংলাদেশ—বয়স যত বাড়ছে, এই বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সারা দেশের দোকানিদের যাতায়াত। কেননা দেশি-বিদেশি পণ্য সুলভে কেনার ক্ষেত্রে চকবাজার আজও তুলনাহীন। চকবাজারে সর্বশেষ নেতিবাচক ঘটনা ঘটে ১২ অক্টোবর সোমবার বিকেলে। এখানকার মনজুর খান প্লাজা নামের সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় একটি দোকানে আগুন লাগে। এটা কি দেশের দমকল বাহিনীর সক্ষমতার ঘাটতির ইঙ্গিত করছে। মূলত সরু গলি, পানির স্বল্পতা ও প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা ছিল অনেক কঠিন এক লড়াই। তবে পুরো ভালো বলা যায় না, বড়জোর মন্দের ভালো বলা যাবে। নিমতলী-চকবাজার-বনানী-মগবাজার; গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঝরে গেছে শত প্রাণ। যেখানে বিদ্যুৎজনিত ঝুঁকি দৃশ্যমান পদে পদে।

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এর আগে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টায় সংঘটিত বিধ্বংসী আগুনের রেশ এখনো কাটেনি। ওই অগ্নিকাণ্ডে ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তখনকার তদন্তে বেরিয়ে এসেছিল, রাস্তা থেকে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া ওই আগুনের অন্যতম মূল কারণ ছিল গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ। সেই ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও চকবাজারের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে এখনও বিপদজনক রাসায়নিকের গুদাম রয়ে গেছে। ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ১২৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, তার সূত্রপাত হয়েছিল ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ থেকে। আজকের বাস্তবতায় চকবাজারের অলিগলিতে সেই একই পুরনো ঝুঁকির পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা সচেতন মহলে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অদ্ভুত এক সংবাদ শিরোনাম পাঠের সৌভাগ্য হলো। আর প্রাণহানি হলে তো সেই ক্ষতি অপূরণীয়।

ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন ও নকশার নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন রাজধানী ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী সংকট। এক সময় বনানীর এফ আর টাওয়ারের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল, রাজউক থেকে ১৮ তলার অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর সেই নকশাগত অনিয়ম নিয়ে মামলাও দায়ের করা হয়। তবে বিষয়টি শুধু একটি নির্দিষ্ট ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক দশকের পুরনো তথ্যমতে, ঢাকা শহরে তখন ২২ লাখ ভবন ছিল। তার মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ৩২১টি ভবনকে, যার মধ্যে ৩৯টিই পুরান ঢাকায় অবস্থিত। এছাড়া রাজউকের নিজস্ব জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ ভবনই কোনো না কোনো নিয়ম না মেনে নির্মিত হয়েছে। বড় কোনো সড়ক না থাকা গলিসমৃদ্ধ এক এলাকা আসলে এই বাজার। আর পাওয়া যায়নি কোনো হতাহত হওয়ার খবর।

শহরের অগ্নিনিরাপত্তা ও কাঠামোগত ঝুঁকি নিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যেও অমিল পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা শহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ হাজার। সরকারি সংস্থাগুলোর একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়া এবং যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরান ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় পরিকল্পিত সড়ক ও প্রশস্ত গলির অভাব এবং প্রতিটি ভবনে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকায় সামান্য আগুনও বড় ধরনের ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নকশা বহির্ভূত অবৈধ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। কারণ আলো-বাতাস, গাড়ি-ঘোড়া ঠিকঠাক প্রবেশের ব্যবস্থা নেই কোথাও। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণের কুফল হিসেবে এলাকাটি যে মৃত্যুকূপে রূপ নিতে পারে, এক-দুই বছর পরপরই কিন্তু পাওয়া যায় সেই অশনিসংকেত। এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রায়ই নিঃস্ব হয়ে পড়েন শহর ঢাকার ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ - দেশের খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত

আজিমপুর কোয়ার্টারের অব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা ও আর্থিক জরিমানার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল

মোদিকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে আটক কেজরিওয়াল

রাজশাহীতে জার্মান পর্যটকের খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরা উদ্ধারে পুলিশের

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্যে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

প্রবাসীদের মর্যাদা রক্ষা ও অভিবাসন ব্যয় কমানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

মেঘের মতো উড়তে পারলেই হলো: তটিনী

মানসিক স্বাস্থ্য ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে যে ৫টি ভিটামিনের গুরুত্ব

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি: আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিপেটা

সরাইলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা, পুরস্কারের হাতছানি