সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কিছু দিক
- মক্কা চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর খোঁজে মধ্যপ্রাচ্য কি?
- হুতিদের হামলায় সৌদি আরামকোতে অগ্নিকাণ্ড, রিয়াদে আহত ৪ জন।
- হুতিদের অব্যাহত হুমকির মুখে প্রাসাদ বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ সালমান।
- সৌদি পরিস্থিতির প্রভাবে প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থান নিয়ে অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা।
প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে সৌদি আরব। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের একটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে দেশটি নিয়মিত অত্যাধুনিক অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহ করে থাকে। তবে এত সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেশটিকে সুরক্ষিত রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, অসংখ্য স্থাপনা ঝুঁকির মুখে থাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে। ২০২৭ সালে বড় পর্দায় মুক্তির তালিকায় যেসব সিনেমা। সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি সৌদি আরব।
চলতি সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে রিয়াদসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত বিরতিতে হামলা চালানো হচ্ছে। গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সৌদি সরকার যদিও গত সোমবার তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে, তবে বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফ্লাইট ধরার আশায় বিমানবন্দরে ঘুরছেন সৌদিগামী কর্মীরা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উত্তরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম অয়েল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আর দক্ষিণে ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা।
হুতিরা বর্তমানে নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দূরপাল্লার ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানের অস্ত্রের বেশ মিল রয়েছে। বিশেষ করে হাতেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২৫ মিনিট পর্যন্ত গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম এবং তাপ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমির বার শালোমের মতে, প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের এত নির্ভুল হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলির দাবি, হুতিদের হাতে থাকা এসব আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে ইরানের প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আট বছর আগে থেকেই ইয়েমেনে এসব প্রযুক্তি পৌঁছানোর বিষয়টি জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছিলেন। হুতিরা দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ জোটের অংশ হিসেবে পরিচিত এবং তেহরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। যদিও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান, তবে বাস্তবতা বেশ জটিল।
হুতিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি দাবি করেছেন, সৌদি আরব মধ্যস্থতার প্রস্তাবে রাজি হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল আসেনি। হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা বন্ধ এবং কয়েকশ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিমানবন্দরে বেসামরিক মানুষ হত্যার পর এখন সমঝোতায় আসা সৌদি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, স্থল অভিযানের মাধ্যমে হুতিদের নির্মূল করাও ইয়েমেন সরকারের জন্য কঠিন, কারণ পাহাড়ি ভূখণ্ডে হুতিদের লড়াইয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটন প্রসারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে বড় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত হওয়া তারই ইঙ্গিত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের সীমাবদ্ধতাও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সৌদি আরব আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে নতুন জোট তৈরির চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমে আসায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাওয়াও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে, হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে সৌদি আরবের জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল রূপ নিচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকেও উন্নত অস্ত্র কিনেছে।















