কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত হয় ‘বিজ্ঞান মেলা ও চারু-কারুকলা প্রদর্শনী ২০২৬’। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, শিল্পবোধ এবং উদ্ভাবনী শক্তির এক নান্দনিক সম্মিলন ঘটে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন সেদিন মেধা, মনন ও স্বপ্নের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোঃ ওয়ালিউর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুদানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ইউসুফ আলতাহির, প্যালেস্টাইন স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আব্দেল মুসলেহ, ব্রাইট ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আলী জুলকারনাইন, শ্রীলংকান স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিস্টার জিওয়ানথা ও মিস্টার চামারা। অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইশতিয়াক আহমদ, গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল হক, দাতা সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী এবং অভিভাবক-শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফিরুজ আহমদ। এছাড়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের বিশাল সমাহার ছিল। প্রভাতী শাখার কেজি-১ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি ৩০৮টি চারু ও কারুকলার চিত্রকর্ম স্থান পায়। অন্যদিকে, পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১৯৫টি বিজ্ঞান প্রকল্প উপস্থাপন করে। দিবা শাখার প্রাথমিক পর্যায়ের ১৫০টি এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭৫টি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীকে আরও সমৃদ্ধ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওয়ালিউর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মানসিকতা ও বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই মেলা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ এই আয়োজনের সফলতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করা এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, যা তাদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব জগতের সেতুবন্ধন তৈরিতে সাহায্য করবে।















