Tuesday , 13 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

দিল্লিতে বিক্ষোভ ও ধরপাকড়: তেলাপোকা আন্দোলনের নেপথ্যে কী?

প্রতিবেদক

October 13, 2026 5:47 am

দিল্লির রাজপথে গত ১০ অক্টোবর এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে তেলাপোকা মারতে কামান দাগানোর মতো ঘটনা দেখা গেছে। অরাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভের দিনে প্রশাসন নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা কার্যত সিলগালা করে রাখা হয়। কোনো মাছিও যেন প্রবেশ করতে না পারে, এমন কড়া নিরাপত্তায় রাজধানীর বিশাল অংশ ঢেকে ফেলা হয়েছিল। বেড়েছে চালের দাম, কারণ জ্বালানি ও ধানের মূল্যবৃদ্ধি, মৌসুমের শেষ। সবাই জানেন যে, গত ১০ অক্টোবর তেলাপোকায় ভয় না পাওয়া নরেন্দ্র মোদি দিল্লির বিশাল অংশ ‘সিলগালা’ করে দিয়েছিলেন, যাতে মাছিও ঢুকতে না পারে। তার বাসভবনের সামনের সড়ক বন্ধ ছিল বলে নিন্দুকেরা দেখতে পায়নি—‘৫৬ ইঞ্চি’ ছাতির প্রধানমন্ত্রীর ঘরের দরজা-জানালাও বন্ধ ছিল কিনা।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওইদিন অন্তত ৭ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। শুধু সাধারণ বিক্ষোভকারীই নয়, দিল্লির বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেও নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের পাশাপাশি আধা সামরিক বাহিনী এবং প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। হামজা-শমিতদের ছাড়াই সাফের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ।

দিল্লির রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি, গণপরিবহন বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয় সরকার। এমনকি আন্দোলনের দৃশ্য ধারণ করতে আসা ইউটিউবারদেরও রেহাই দেয়নি পুলিশ। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আর আটক ব্যক্তিদের অনেককেই ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে।

বিক্ষোভের এই পরিস্থিতি নিয়ে ওই রাতেই উদ্বেগ জানিয়েছিল জাতিসংঘ। তবে ভারত সরকার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্যকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অবান্তর হস্তক্ষেপ’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। দিল্লি দাবি করে, তারা বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ এবং ভারতের সংবিধান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দেয়। একইসাথে বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও জোর দেয় নয়াদিল্লি।

সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকসহ আটক নেতাদের ধরপাকড় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এছাড়া, গত ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ধরপাকড় বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। তবে এই আন্দোলন শুধু সিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি এবং সরকারের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। কলকাতার রাজপথেও বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

রাজনীতির অন্দরেও এখন নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এখন কেবল বাইরের বিরোধীদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছে না, বরং দলের ভেতরের ‘ঘুণপোকা’ বা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও সামাল দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং বিজেপির অন্দরে তাকে নিয়ে সৃষ্ট অস্বস্তি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে সরকারের ভেতরে এক ধরনের ঘুণ ধরেছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিয়ে যে জনমত তৈরি হচ্ছে, তা সরাসরি শাসক দলের ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে। বিরোধীদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এমনকি বিজেপির একাংশও মনে করছে, জ্ঞানেশ এখন দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ে মোদি-শাহ, আরএসএস-বিজেপি, বিরোধী-জেন জি।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে চুয়েটের উপাচার্যের কার্যালয়ে ২২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি ছাড়াও চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড ও সেখানে চার ফায়ার ফাইটারের হাসপাতালে ভর্তির মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবরও উঠে এসেছে। তবে দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তরুণ ভোটারদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ। চকবাজারের আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে, হাসপাতালে ৪ ফায়ার ফাইটার।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, তরুণ ভোটারদের দমন করার এই সরকারি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যারা সমাবেশে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাদের অনেককেই আটক করা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট বলেছেন, যতদিন দাবি না মানা হবে, তারা বারবার রাজপথে নামবেন।

সব মিলিয়ে ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ কেবল একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি নয়, বরং ভারতে রাজনীতির এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের জন্য এই তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোদি-শাহের রাজনৈতিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেও স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

সর্বশেষ - জনপ্রিয়

সর্বোচ্চ পঠিত - জনপ্রিয়