ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ব্যঙ্গাত্মক নগ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। আট ফুট উচ্চতার এই বিশেষ ভাস্কর্যটির নামকরণ করা হয়েছে ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’। পুরো ভাস্কর্যটিকে ২৩ ক্যারেট স্বর্ণের পাত দিয়ে অত্যন্ত যত্নসহকারে আবৃত করা হয়েছে, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই শিল্পকর্মটির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাস্কর্যটির প্রদর্শনী নিয়ে জেনস গালশিওট মন্তব্য করেন যে, আমাদের এই ধরনের পরিস্থিতি সামনা-সামনি মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তিনি এমন ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এই ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন ডেনমার্কের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পের ক্লাউসেন। তিনি এই প্রদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যদি কেউ এতটাই স্পর্শকাতর হয়ে থাকেন যে এই ধরনের শিল্পকর্ম সহ্য করতে পারেন না, তবে বিশ্বমঞ্চে তার কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
ট্রাম্পের ভাস্কর্য নিয়ে এমন সমালোচনা বা প্রতিবাদ নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ‘সুইং স্টেট’-এ ট্রাম্পের ৪৩ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছিল। তারও আগে ২০১৬ সালে যখন তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাম্পের পাঁচটি জীবনাকৃতির ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল।
বর্তমান এই নগ্ন ভাস্কর্যটি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শনের পর এটি আগামী নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কপ-৩১ (COP31) জলবায়ু সম্মেলনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনামূলক দিকগুলো তুলে ধরতেই তারা এই ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্মের সাহায্য নিচ্ছেন।















