বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতার সমীকরণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ২৪ সেপ্টেম্বর, বুধবার ফার্স্টলেডি পেং লি ইউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওয়াশিংটনে এসে পৌঁছান। স্থানীয় সময় বিকেলে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে চীনা প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজটি অবতরণের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সফরকালে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং যুদ্ধবিমানের ফ্লাইপাস্টের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানানো হয়।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও স্বাগত বার্তা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ফার্স্ট লেডিকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। চীনা প্রেসিডেন্টকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তার পদার্পণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন প্রেক্ষাপটে এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করা হচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের বক্তব্য
জবাবে এক লিখিত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনা জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই বিশ্বমঞ্চে দুটি মহান দেশ। শি জিনপিং স্মরণ করিয়ে দেন যে, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহযোগিতাকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে, প্রতিযোগিতাকে সংযত রেখে এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণযোগ্য রাখার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি টেকসই ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সময়ের পরিবর্তন এবং উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছে, তাতে দুই দেশের দায়িত্বশীল ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সফর দুই দেশের ভবিষ্যতের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
















