২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়িকে কেন্দ্র করে দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন বর্ধিতের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির নির্ধারিত দিন ছিল।
বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তানজিন তিশা এবং পৌনে ১২টার দিকে আদালতের এজলাসে উপস্থিত হন। শুনানির শুরুতে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিশার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খোরশেদ আলম। অন্যদিকে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল জামিনের বিরোধিতার যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামিন পাওয়ার পর অভিনেত্রী তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আইনজীবী ও বাদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক বাদীপক্ষের আইনজীবীকে কোনো অভিযোগ থাকলে তা পিটিশন আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পরে ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আদালতে পৌঁছান তিনি।
মামলাটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, অনলাইন ফ্যাশন হাউস ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে এর প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ তোলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলা দায়ের করা হলে আদালত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেয়। ডিবি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে প্রথমবার আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন তিশা। বর্তমানে মামলাটি বিচারের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে বদলি করা হয়েছে। যদিও অভিনেত্রী শুরু থেকেই এই প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
আদালতের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তানজিন তিশা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি বিশ্বাস রাখি। আমাকে যদি প্রয়োজনে আরও পাঁচবার আদালতে আসতে হয়, আমি আসব। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সত্যতা নিয়ে বাঁচতে চাই। কেউ আইনের অপব্যবহার করলে তা আমি সমর্থন করি না।’ তিনি বলেন, ‘অনেকের মনে হতে পারে, আমি আবার আদালতে এলাম কেন। আইনের প্রতি আমার যে বিশ্বাস আছে, সেই বিশ্বাস থেকে আমি আবারও আসছি।
মামলার বাদীপক্ষ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তানজিন তিশা অভিযোগ করেন যে, বাদী এবং তাঁর দুই বোন মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। অভিনেত্রী আরও মন্তব্য করেন, তিনি বিষয়গুলোকে খুব বেশি জটিলভাবে চিন্তা করতে পারেন না। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করা ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন এবং তাঁর কাছে দর্শকের ভালোবাসাই মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে। এই মামলার পরবর্তী তারিখ আদালত থেকে এখনো জানানো হয়নি। আর তাঁর ক্ষমতা হলো দর্শকের ভালোবাসা।















