যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্লস্টারশায়ার এলাকায় অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং (সিটিপি)। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ওই ঘাঁটির কাছাকাছি ৮৫টি পরিবারকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ এনে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্লস্টারশায়ার পুলিশ জানায়, রবিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে বিমানঘাঁটি অভিমুখে তিনটি সন্দেহভাজন গাড়ি এগিয়ে আসতে দেখা যায়। এরপর উইলফোর্ড এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়, যা ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ওই এলাকায় ৪০০ মিটার ব্যাসার্ধের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে পুলিশি অভিযানের সময় তাদের দ্রুত বাড়ি ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কটসওল্ড ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সহায়তায় অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েক ডজন ঘরবাড়ি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনা সম্পর্কে যা জানা গেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। ফেয়ারফোর্ড শহর থেকে ঘাঁটিটি প্রায় ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে। পুলিশ তাঁদের কোথায় রেখেছে, সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি।
তদন্তাধীন ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদ আইন অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই কোনো সন্দেহভাজনকে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখা সম্ভব। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মার্কিন কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এ ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেছে। জেফ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, তিনি চিৎকারের শব্দ শুনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে পুলিশকে কয়েকজনকে আটক করতে দেখেন।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি বিভিন্ন কৌশলগত অভিযানে ব্যবহার করে আসছে। স্নায়ুযুদ্ধ ও ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ঘাঁটিটি মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক এয়ার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এছাড়া ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানে এখান থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হয়েছিল। সবশেষ গত ১ মার্চ ইরানবিরোধী হামলার উদ্দেশ্যে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘাঁটির কাছে সন্দেহভাজন তিনটি ভ্যান ও মুখোশ পরিহিত ব্যক্তিদের তৎপরতা দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল।
















