Tuesday , 29 September 2026 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জনপ্রিয়
  5. জাতীয়
  6. দুর্যোগ
  7. দেশের খবর
  8. বাণিজ্য
  9. বিনোদন
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের পারদ কি সত্যিই নিচে নামছে?

প্রতিবেদক

September 29, 2026 6:56 am

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ককে ঐতিহাসিকভাবে ‘ইস্পাতকঠিন’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন ইসরায়েলপন্থি মার্কিন রাজনীতিকরা। কিন্তু সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফর সেই চিরচেনা সম্পর্কে ভাটার টান পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গাজায় গণহত্যায় অভিযুক্ত এই নেতার সফরটি ছিল গত বছরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে সংক্ষিপ্ত। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এ বছর নিউইয়র্কে তিনি আট ঘণ্টারও কম সময় অবস্থান করেন, যেখানে গত বছর তিনি সপ্তাহব্যাপী সফর করেছিলেন। এ যেন অনেকটা ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’-কাহিনি। তবে এবারের সফরে বোঝা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্পর্ক কঠিন সময় পার করছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এ বছর নিউইয়র্কে নেতানিয়াহু ৮ ঘণ্টার কম সময় থেকে থাকতে পারেন।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তিনি ৯টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, যার মধ্যে ৫টি লাতিন আমেরিকার দেশ। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সূচি বা বার্তা তার কার্যালয় থেকে পাওয়া যায়নি। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে অবতরণ করে দুপুরে জাতিসংঘে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। অতীতে ১৪ বার এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেও এবার তার জন্য পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একইদিনে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক সংবাদের শিরোনাম করে—‘নেতানিয়াহুর স্বল্পসময়ের নিউইয়র্ক সফর মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রতিফলন।’। গাজার ধ্বংসস্তূপে অগণিত মরদেহ, সঙ্গে অবিস্ফোরিত বোমা।

ভাষণ মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় বিশ্বনেতাদের বড় একটি অংশ অধিবেশনস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এই ওয়াকআউট মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ইসরায়েলি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কূটনীতিকদের প্রতিবাদ ছিল। এমনকি সম্মেলনের সভাপতিদের আসনে থাকা ব্যক্তিরাও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পুরো হলরুমের অধিকাংশ আসন ছিল খালি।

নেতানিয়াহুর এই সফরের প্রতিবাদে নিউইয়র্কজুড়ে ছিল উত্তাল বিক্ষোভ। অস্কার বিজয়ী তারকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই প্রতিবাদে অংশ নেন। ‘ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করো’ ও ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ করো’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত হয়। শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্যও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবের কাওয়াসসহ স্থানীয় অনেক নেতা ও অধিকারকর্মী এই সফরের কঠোর বিরোধিতা করেন।

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে জাতিসংঘে মন্তব্যের জেরে নেতানিয়াহু নিজেও সমালোচনার মুখে পড়েন। এমনকি ইহুদি সংগঠনগুলোও পিছিয়ে ছিল না। ‘জুইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশন’-এর পরিচালক বেথ মিলারসহ অনেকে মনে করেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ দিয়ে ইসরায়েলি সরকারকে সহায়তা করার বিষয়ে জনমত বদলাচ্ছে। বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন নেতানিয়াহুকে শয়তানের সাথে তুলনা করে তাকে ‘শিশু হত্যাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জায়নবাদের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জনমত নয়, বরং মার্কিন রাজনৈতিক মহলেও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন হ্রাস পাচ্ছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হামিদ দাবাশির মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন জনগণের নেতিবাচক মনোভাব মূলধারার রাজনীতিবিদদের ওপরও প্রভাব ফেলছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারাও, যারা অতীতে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন, বর্তমানে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাড়ি এসে তার দেখা তো পাওয়া গেলই না, এমনকি কথা বলার সুযোগও মিললো না। উল্টো দেখা গেল—‘সবচেয়ে বড় শত্রুর সবচেয়ে বড় বন্ধুর’ সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দহরম-মহরম।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ-এর সাম্প্রতিক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারের নীতি এবং ইতামার বেন-গভিরের মতো মন্ত্রীদের অতি-ডানপন্থি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপ-রাষ্ট্রপতি প্রার্থী জেডি ভ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বক্তব্যেও ইসরায়েলের সাথে বিশেষ সম্পর্কের গুরুত্ব আগের মতো আর অনুভূত হচ্ছে না।

জার্মানির মতো দেশগুলোও বর্তমানে ইহুদি সুরক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা দেশটিতে ইহুদিদের বর্তমান অস্বস্তিকর অবস্থার বহিঃপ্রকাশ। সব মিলিয়ে গাজায় যুদ্ধের জের ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহুর মাথার ওপর এখন আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলে আছে, যা তার কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও সীমিত ও বিতর্কিত করে তুলেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

আজকের খেলার সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংবাদ (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)

শি-ট্রাম্প বৈঠক: যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের মোড় ঘোরানো ৫ ইস্যু

জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরানি নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘে যেতে মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের পারদ কি সত্যিই নিচে নামছে?

নিয়োগপত্র না পাওয়ায় শাহবাগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান

নির্বাচনের আগে বড় বিপাকে নেতানিয়াহু: ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা নিয়ে নতুন বিতর্ক

গাজার তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান কাতারের

মেসিকে যেভাবে শেষ ম্যাচে রাজকীয় বিদায়ের রাজি করালেন স্কালোনি

নির্যাতিত মুসলিম সমাজের পাশে থাকার ঘোষণা: এরদোয়ান