Sunday , 27 September 2026 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জনপ্রিয়
  5. জাতীয়
  6. দুর্যোগ
  7. দেশের খবর
  8. বাণিজ্য
  9. বিনোদন
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি

স্থবির বিচার বিভাগ সংস্কার: বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

প্রতিবেদক

September 27, 2026 8:22 am

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও জুলাই সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন অত্যন্ত সীমিত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত এই কমিশন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিবর্তনের রূপরেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। জমি নিয়ে বিরোধ থেকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: পুলিশ। বিশ্লেষণ / হাসিনা ইস্যু ঢাকা ও নয়াদিল্লির ওপর ছেড়ে দিল ওয়াশিংটন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে তিনি এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ আইনি প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, সংস্কার কার্যক্রম কেবল ধীরগতির নয়, বরং অর্জিত কিছু অগ্রগতি থেকেও পিছিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গত এপ্রিলে সংসদ কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার বিষয়টি সংস্কারের ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত মূল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের পথে বড় বাধা। মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পর শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করতে পারত, যা করা হয়নি। এর মধ্যে বিচারকদের সম্পদের হিসাব অনলাইনে প্রকাশ, স্বাধীন অপরাধ তদন্ত সংস্থা গঠন, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস ব্যবস্থা এবং মোবাইল কোর্টের সংস্কারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার অভাব এবং আইনি জটিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিব মাহবুবের মতে, বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি, আপিল বিভাগের আকার পুনর্নির্ধারণ, অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা প্রদর্শনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করার মতো বড় প্রস্তাবগুলো সংবিধান সংশোধন ছাড়া কার্যকর করা অসম্ভব। তবে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায় দ্রুত প্রকাশের মতো অনেক প্রশাসনিক সুপারিশ প্রধান বিচারপতির আদেশের মাধ্যমেই সম্ভব ছিল। বিকেন্দ্রীকরণের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ২ প্রধান শহরে বন্দুক হামলায় নিহত ২৭। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করা, বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ ও উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপন করা, আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারককে প্রধান বিচারপতি। 70.

অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা ছয় হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েও রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সংকট। বাজেট ও প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে চার হাজার নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতিও রয়েছে। ব্যারিস্টার তামিম হোসেন শাওন জানান, ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধির সংশোধনীগুলো বর্তমানে কার্যকর আছে। এসব সংশোধনী মামলার শুনানি মুলতবি করার প্রবণতা কমিয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা বাড়িয়ে ন্যায়বিচার ত্বরান্বিত করেছে। কমার্শিয়াল কোর্ট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটিও অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ, পুলিশের পরিচয় নিশ্চিত করা, আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া এবং অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এই সংশোধনীগুলোর ফলে মামলার শুনানি মুলতবি করার প্রবণতা কমেছে এবং প্রতিদিন মামলা নিষ্পত্তির সক্ষমতাও বেড়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বড় প্রস্তাবগুলোর জন্য সংসদীয় পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে। তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ পাওয়া এখনও অনিশ্চিত।

গত ১৩ জুলাই সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়। শুরুতে ১২ সদস্যের এ কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ছিল। বিরোধী দলীয় সদস্যরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ওয়াকআউট করলে কমিটির কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে। ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়ার জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২৬টি আমন্ত্রণ পাওয়া দলের মধ্যে ১১টি দলই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল, যা বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক জটিলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বিচার বিভাগীয় প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় বিচার বিভাগীয় একাডেমি প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগগুলো চলমান থাকলেও তা আধুনিক বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট নয়। বিচারকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগের অভাবে সংস্কারের সুফল এখনো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের চেয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এখনো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্যারিস্টার তামিম হোসেন শাওনের মতে, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া আলোর মুখ না দেখা পর্যন্ত কোন সুপারিশগুলো টিকে থাকবে তা বলা কঠিন। সংস্কারের চেয়েও বরং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি সংস্কার কার্যক্রমকে আরও ঝিমিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংসদীয় কমিটি এবং সরকার ভবিষ্যতে আইনি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে কতটা অটল থাকে।

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন কর্তৃক চিহ্নিত সমস্যাগুলো—যেমন নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা—এখনো অমীমাংসিত। কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করার সুপারিশটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি কার্যকর করা সম্ভব হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপন ও বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও জনভোগান্তি লাঘবের অন্যতম উপায় হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত বাজেট ও অবকাঠামোর অভাবে এই বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনা আজও স্বপ্ন হয়ে রয়ে গেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নীতি নির্ধারণ নয়, বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছাই একমাত্র পথ।

সব মিলিয়ে, বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগ এখন এক জটিল গোলকধাঁধায় আটকে আছে। আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এই প্রক্রিয়ার মূল অন্তরায়। দেশের আইনি কাঠামোকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার জন্য বিদ্যমান অধ্যাদেশগুলোর সংশোধন ও সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে আছেন আইনবিদ ও সাধারণ নাগরিকরা।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

অ্যানফিল্ডে জয়সূচক গোল করে লিভারপুলের মানসিকতার প্রশংসা করলেন ম্যাক অ্যালিস্তার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীর দুই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা: গ্রেপ্তার ৩

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অংশীদার হওয়া উচিত: শি জিনপিং

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক আড্ডা ও মতবিনিময়

নোয়াখালীতে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ: জনরোষের মুখে আটক শিক্ষক হাসপাতালে

ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার

জাতিসংঘের সফর শেষ করে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখছেন এমবাপ্পে, নিজেকেই মনে করছেন যোগ্য দাবিদার

কাতারে ট্যাক্সি ও লিমোজিন সেবায় বসছে নজরদারি ক্যামেরা, বাধ্যতামূলক হচ্ছে নতুন নিয়ম