টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব হারানো এবং ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে দেশে ফেরার ঘটনা সালমান আলী আগার ক্যারিয়ারে বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছিল। দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। প্রথমে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিলেও পরবর্তী সময়ে দল থেকে ছিটকে যান।
গত আগস্টের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি।
তবে সেই হতাশা থেকে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে তিনি মনোযোগ দিয়েছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। এই পরিশ্রমের ফল মিলেছে হাতেনাতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার। কিন্তু সেই হতাশায় ডুবে না থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ট্রিপল সেঞ্চুরিসহ একের পর এক বড় ইনিংস খেলে নিজেকে তৈরি করেছেন নতুন করে। দেশে ফিরে নিজের ব্যাটিংয়ের সমস্যা কাটাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগ দেন ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। আল্লাহর রহমতে আজ সেই পরিশ্রমের ফল পেয়েছি।
রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের নায়ক ছিলেন আগা। তিনি ৯০ বলের মোকাবিলায় ১০টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১০৭ রান সংগ্রহ করেন, যার সুবাদে পাকিস্তান জয় পায় ৩৭ রানের ব্যবধানে। ম্যাচসেরার পুরস্কারজয়ী এই ব্যাটার তার সাম্প্রতিক এই সাফল্যের পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটের কঠোর পরিশ্রমকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।
ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ে তিনি পাকিস্তান প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রতিযোগিতায় কিংসমেনের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। সেপ্টেম্বরে সেই প্রতিযোগিতায় অপরাজিত ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি মাসের শেষ দিকে আরেকটি সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে নির্বাচকদের নজর কাড়েন। তিনি জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটে পাঁচটি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি নিজের ব্যাটিং কৌশলের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল হয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় রান করলে অনেকেই সেই অর্জনকে ছোট করে দেখেন বলে অভিযোগ আগার, ‘আমার মতো কোনো খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, সাবেক ক্রিকেটার কিংবা সংবাদমাধ্যমে অন। সেখানেই শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। তাই আলোচনায় থাকা কিংবা না থাকা আমার কাছে খুব বড় বিষয় নয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটকে অবমূল্যায়ন করার প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আগা বলেন, অনেকের ধারণা ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা সহজ। তার মতে, বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সেখানে রান পেতে কঠোর লড়াই করতে হয় এবং এটি সহজ কোনো বিষয় নয়। যারা মনে করেন ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা বড় কোনো অর্জন নয়, তাদের সমালোচনাকে তিনি গুরুত্বহীন বলে মনে করেন। এমন প্রত্যাবর্তনের পর ঘরোয়া ক্রিকেটকে অবমূল্যায়ন করা সমালোচকদেরও একহাত নিয়েছেন পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান।
আগার ভাষ্যমতে, প্রায় এক দশক ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাই তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লড়াই করার রসদ জুগিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় বড় বোলারদের বিপক্ষে চাপের মুখে পারফর্ম করার চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। ফর্ম হারানোর পর সেখান থেকে ফিরে আসা সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন একটি প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের গত তিন-চারটি টেস্ট ম্যাচ খারাপ গেলেও আগের টানা চার বছর তিনি ধারাবাহিক ভালো খেলেছেন। টানা ব্যর্থতায় জায়গা হারিয়েছিলেন দল থেকে। আমি নিজে ১০ বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসেছি।
নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিতে গিয়ে আগা সৌদি শাকিলসহ অন্য উদীয়মান খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের কথাও স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে যারা উঠে আসছেন, তাদের অর্জনের সঠিক মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এখন সময় এসেছে মাঠের ক্রিকেটের এই ভিত্তিটিকে যথাযথ সম্মান দেখানোর।
উল্লেখ্য যে, একই সময়ে অন্যান্য সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনা এবং বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামার আগে রিয়াল মাদ্রিদের গোল উৎসব। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে নতুন দলনেতা হিসেবে ফারহানের নিয়োগ এবং আগার বিতর্কিত রান আউটের ঘটনাও ক্রীড়াপ্রেমীদের নজরে রয়েছে। তবে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে আগা এখন নিজের ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। বার্সার মুখোমুখি হওয়ার আগে রিয়ালের গোল উৎসব।















