রাজধানীর রিজেন্সি হোটেলে গত শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এআই অটোমেশন সামিট ২০২৬’। মাইএআই ও আইডিয়ান সেন্টার ফর বিজনেস এক্সিলেন্স (আইসিবিই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেন প্রায় ২৫০ জন উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবী। আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। কীভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের এআই টুল ব্যবহারের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ এআই-চালিত ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তোলা যায়, তা ছিল এই সামিটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
দিনব্যাপী বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশিক্ষণমূলক অধিবেশনে ব্যবসার নানা স্তরে এআই-এর প্রয়োগ দেখানো হয়। এর মধ্যে কনটেন্ট পরিকল্পনা, বিপণন কৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহক ব্যবস্থাপনা, বিজনেস রিসার্চ, পণ্য উন্নয়ন, টিম প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি, ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন এবং এআই টেক স্ট্যাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাতে-কলমে এসব প্রয়োগের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সহযোগী অধ্যাপক ও মাইএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাইফ নোমান খান এবং আইডিয়ান কনসাল্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও মাইএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক অনুপম মল্লিক। প্রশিক্ষক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আদনান রাফিদ, মেহেদী হাসান ও শাফাত কাদির। মাইএআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ‘এআইকন’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিল্পের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতামত বিনিময় করেন। আলোচনায় অংশ নেন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ আবদুল মোমেন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির চিফ ডিজিটাল অফিসার খালিদ হোসাইন, অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশনের সিইও ইকবাল বাহার, ড্যাফোডিল গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান, আকিজ রিসোর্সের চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তৌফিক হাসান এবং ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রিন্সিপাল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মো. রাফিউল হাসান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ‘এআই বিজনেস একসিলারেটর’ নামে একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামের ঘোষণা দেওয়া হয়। সাড়ে চার মাস মেয়াদি এই কর্মসূচিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা শুধু এআই টুলের ব্যবহারে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যবসার বিপণন, সেলস, অপারেশনস, ফাইন্যান্স এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এআই-এর সঠিক প্রয়োগ শিখতে পারবেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় এআই ওয়ার্কফ্লো এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবসায়িক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের মতে, এই সামিট ছিল এআই প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবসায়িক রূপান্তরের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।
















