সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিলের সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপি। বিষয়টি নিয়ে আগামী শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে কাউন্সিলের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও দলের বর্তমান সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ এই কাউন্সিল হয়েছিল। ওই সময় খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন এবং তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাজনৈতিক বিধিনিষেধ, আইনি জটিলতা, গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক প্রতিকূলতার কারণে নিয়মিত কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।
বর্তমানে নতুন করে কাউন্সিল আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকে সরকারে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা স্থিমিত হয়ে পড়েছিল। তাই মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বাইরে একটি নতুন নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবেই এই কাউন্সিলকে দেখছে দলটি। দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হলে তা দলের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর অনেক নেতা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যা কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে। তাই দলকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম এমন নতুন নেতৃত্বকে মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমানে বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টিরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টির কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কাউন্সিলকে সামনে রেখে তৃণমূলের ইউনিটগুলোকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। এর অংশ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পরিবর্তন, আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন কাউন্সিলে দলের মহাসচিব পদটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে বর্তমানে রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তার নাম মহাসচিব পদের জন্য জোরালোভাবে আলোচনায় আসছে। যেহেতু তিনি সংসদ সদস্য নন, তাই দলের সাংগঠনিক কাজে তিনি পূর্ণ সময় দিতে পারবেন বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
কাউন্সিলের আগে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। এছাড়া ক্ষমতার বাইরে থাকার দীর্ঘ বছরগুলোতে যারা দলের কার্যক্রম সচল রেখেছিলেন, এমন নেতাদের সামনে নিয়ে আসার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুর মতো নেতাদের কাঁধে বড় দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবারের বৈঠকে কাউন্সিল ছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জাতীয় কাউন্সিল হলো এমন একটি ফোরাম যেখানে দলীয় নীতিমালা অনুমোদন, গুরুত্বপূর্ণ কমিটি নির্বাচন এবং গঠনতন্ত্র সংশোধনের মতো বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাহফুজ আনামের কলাম / ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার কথা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্লেষণ / টুইন টাওয়ার হামলার ২৫ বছর, বদলে যাওয়া পৃথিবী ও মামদানি বিতর্ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হুতিদের ওপর হামলা চলাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাগরে ৩ নম্বর সংকেত, লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের শঙ্কা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই নিয়ম অনুযায়ী, দলটি এখন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দলীয় নেতারা এই বিলম্বের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিধিনিষেধ, আইনি মামলা, গ্রেপ্তারসহ সাংগঠনিক নানা প্রতিকূলতাকে দায়ী করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত সবার ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব দিক বিবেচনায় নিলে দলকে এগিয়ে নিতে এই কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’।













