জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা না করলেও একাত্তরের ভূমিকার বিষয়ে পরোক্ষভাবে তারা সেই অবস্থান মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার বইয়ে জামায়াতকে ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী জানান, ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বইটিতে সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে যে চিন্তাভাবনা উঠে এসেছে, তা একজন মানুষের জীবনাদর্শের প্রতিফলন। বইয়ের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, ইসলামিক শাসন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া একটি ভ্রান্ত নীতি; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়াই সঠিক পথ। এই বইটিকে তিনি কোনো গবেষণাপত্র বা সাধারণ সাহিত্য নয়, বরং একজন মানুষের জীবনের এনসাইক্লোপিডিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। বইটিতে বিএনপি সম্পর্কে যে সমালোচনা রয়েছে, তা গণতন্ত্রের খাতিরে গ্রহণ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
২০২৬ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন ও অ্যাক্ট অব পার্লামেন্ট করার সময় বিশেষ কমিটিতে জামায়াতের ভূমিকার বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই আইনের সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী ও রাজাকারদের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামীর বিরোধিতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। তখন জামায়াত তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করা সম্ভব নয় বলে সরকার অনড় থাকে। পরবর্তীতে সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতের কোনো সদস্য এর বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেননি। মন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন, আজকের পার্লামেন্টারি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও আইন পাসের সময় বিরোধিতা না করার মাধ্যমে দলটি পরোক্ষভাবে সেই অবস্থানই মেনে নিয়েছে। এই ঘটনা রাজ্জাক সাহেবের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বের অনুপস্থিতিকে তাদের সংকীর্ণতা ও ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেন মন্ত্রী।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (UPL)। অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আলী রীয়াজ, Right to Freedom-এর প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি রাজ্জাক সাহেবের ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা, দিস ইজ দ্য প্রোস ফর জুরিস্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন দর্শন যেভাবে ছিল— এই বইটা তার একটা রিফ্লেকশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকে জামায়াতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপে আছেন— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনি রাজ্জাক সাহেবের সব কথার সঙ্গে একমত হবেন— এটা যেমন সত্যি না, আবার তার সমালোচনা গ্রহণ করতে পারবেন না— এটাও সঠিক না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা যদি এটা ধারণ করতে না পারি, সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না।















