যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রয়োজন হলে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধে জড়াতেও ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে শান্তির সুযোগ হাতছাড়া না করতে কূটনীতির পথ খোলা রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি এই সাক্ষাৎকারটি দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান দৃঢ় অবস্থানে থাকবে, এমনকি সেই সংঘাত যদি বিশ্বের জন্য ভয়াবহ রূপ নেয় তবুও তারা পিছু হটবে না। তবে তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই কেবল এই অচলাবস্থা নিরসন সম্ভব। আরাগচি বলেন, কূটনীতিতে ফেরার বিশেষ উৎসাহ না থাকলেও শান্তির স্বার্থে তিনি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। আরাগচি বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে কূটনীতিতে ফেরার কোনো কারণ নেই। ‘আমরা যেমন আলোচনা করতে প্রস্তুত, তেমনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত…তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় থাকব। এমনকি সেই সংঘাত যদি দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো যুদ্ধেও গড়ায়,’ বলেন আরাগচি।
এর আগে গত শুক্রবার ইরান একটি সাত দিনের রূপরেখা প্রস্তাব করে। এতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি ইরানের শর্ত মেনে নেয়, তবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় ফিরবে তেহরান। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় হামলা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা এখনো ট্রাম্পের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তাদের কাছে পৌঁছাননি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের রূপরেখা। ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি…দারুণভাবে জিতছি: ট্রাম্প।
ইরানের এই প্রস্তাবকে ‘নিছক কৌশলী চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ। এনবিসি নিউজকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বিশ্বকে জিম্মি করতে চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব পথ খোলা রাখবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর থেকে দুদেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি লড়াই চলছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বড় সংকটে রূপ নিয়েছে। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধের দামামা। সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়েছে।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন জব্দ করার দাবি করেছে। তবে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটবে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করলেও বাস্তবে সংঘাতের কোনো কূলকিনারা এখনো দেখা যাচ্ছে না।
















