মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে আকস্মিকভাবে ইসরাইল সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক গোপন ও দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। গত সোমবার দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরপাল্লার কোনো অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা একটি অপরিহার্য শর্ত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, এই বৈঠকের স্থান নির্বাচন নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে সাধারণ হেলিকপ্টারের বদলে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে ওভদা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। বৈঠকটিকে বেশ দীর্ঘ বলেও বর্ণনা করেছে তারা। বৈঠকে ইরান ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার বিষয়টি তিনজন ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। তবে ওয়াশিংটন বা তেল আবিব—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এই আলোচনার বিস্তারিত বা কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেনি। তবে বৈঠকের বিস্তারিত কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরকার। আপনি এ কথা বলেছেন, আর আমরা একসঙ্গে তা শেষ করব।’। তবে বৈঠকের উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না আসা পর্যন্ত ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, আর এই সফরের সময়টি ছিল নির্বাচনের ঠিক আট দিন আগে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম। উল্লেখ্য, এই সফরের মাত্র একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক টেলিফোন আলাপে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, দুই মিত্রের এখনো কিছু কাজ বাকি আছে এবং তারা তা যৌথভাবে সম্পন্ন করবেন।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না—সোমবার এমন দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সরাসরি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার অবস্থানে রয়েছে এবং ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এর আগে নেতানিয়াহু নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইসরাইলি নির্বাচনের আগে তিনি বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নন। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব নতুন করে কোনো সামরিক অভিযানের পথ খুঁজছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষই বিকল্প সামরিক কৌশল নিয়ে ভাবছে বলে জানা গেছে। দুই নেতার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
যদিও বিমানঘাঁটিতে বৈঠক হয়েছে বলেই নতুন কোনো হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে পিট হেগসেথের এই সফর সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপের পথে এগোবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।















