Monday , 14 September 2026 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জনপ্রিয়
  5. জাতীয়
  6. দুর্যোগ
  7. দেশের খবর
  8. বাণিজ্য
  9. বিনোদন
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি

ইয়েমেন যুদ্ধের জটিল সমীকরণ: সংঘাতের নেপথ্যে থাকা শক্তি ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের বিস্তারিত

প্রতিবেদক

September 14, 2026 9:13 am

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে এক জটিল মোড় নিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধেই সীমাবদ্ধ নেই এই সংঘাত, বরং আঞ্চলিক শক্তি ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রধান পক্ষ ও তাদের ভূমিকাগুলো অত্যন্ত গভীর।

ইরানের মদদপুষ্ট হুতিরা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। গত এক দশকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের লাগাতার বিমান হামলার মুখেও তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানও তাদের সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করতে পারেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুতিরা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় আসে। গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশের নামে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ শুরু করে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। তৎকালীন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করার লক্ষ্য নিয়ে রিয়াদ একটি সামরিক জোট গঠন করে। তবে দীর্ঘ সামরিক অভিযান সত্ত্বেও হুতিদের ক্ষমতার ভিত্তি উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি, বরং যুদ্ধটি ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই কূটনৈতিক সাফল্যের ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে উত্তজনা কিছুটা হ্রাস পায় এবং রিয়াদ সরাসরি সামরিক সংঘাতের বদলে রাজনৈতিক সমাধানের পথে গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

বর্তমানে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছে প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি), যা ২০২২ সালে গঠিত হয়। কাউন্সিলটির প্রধান দায়িত্ব হলো দেশ পরিচালনা করা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। এতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পিএলসির ভেতরেও রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতপার্থক্য বিদ্যমান থাকায় হুতিদের মোকাবিলায় ঐক্য ধরে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশটির আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইসলাহ’। ইয়েমেনি কংগ্রেগেশন ফর রিফর্ম বা ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অংশ হলেও তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। পিএলসির ভেতরে থাকলেও তাদের সঙ্গে অন্যান্য গোষ্ঠীর স্বার্থের সংঘাত প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে।

তারেক সালেহের নেতৃত্বে থাকা ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস’ হুতিবিরোধী লড়াইয়ে আরেকটি শক্ত খুঁটি। ইয়েমেনের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা তারেক সালেহ এবং তার বাহিনী সরাসরি সরকারের পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করছে। পিএলসির বৃহত্তর কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন হুতিবিরোধী শক্তিকে একাট্টা করার প্রচেষ্টায় তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

ইয়েমেনের এই সংঘাতকে কেবল হুতি ও সরকারের মধ্যকার লড়াই হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর সঙ্গে জড়িত দেশের অভ্যন্তরীণ উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন, পিএলসি, ইসলাহ ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো বিভিন্ন শক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা। পাশাপাশি লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং গাজা যুদ্ধের প্রভাব ইয়েমেনের সংকটকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।

পরিশেষে, ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কেবল সরকারের সঙ্গে হুতিদের সমঝোতায় সম্ভব নয়। এর জন্য বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ঐকমত্য, আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সৌদি আরব ও ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য। দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ তাই আজও নিরাপত্তার নিরিখে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে টিকে আছে।

সর্বশেষ - Uncategorized

আপনার জন্য নির্বাচিত

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করলেন হাইকোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল

বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব: বছরে অকালমৃত্যু প্রায় ১৭ লাখ মানুষের

চট্টগ্রামে ফায়ারিং অনুশীলনে প্রাণ হারালেন সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক

দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতিগ্রস্ত: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়: কাতার

ইরাক থেকে ড্রোন হামলা: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ

সৌদিতে হুতিদের হামলা: নতুন প্রতিরক্ষা জোটের সামনে বড় অগ্নিপরীক্ষা

Test 3

ব্রিসবেনে কাজের সময় ছাদ ভেঙে ঘরে পড়ল নিশাচর প্রাণী, ভিডিওতে ধরা পড়ল দৃশ্য