জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়া (২৫)। চরম অভাব ও প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে ২০২৩ সালে স্নাতক এবং ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ছোটবেলায় মাকে এবং কিশোর বয়সে বাবাকে হারানোর পরও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছেন।
মিজানের বাবা খোরশেদ মিয়া পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। মিজানের একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মারা গেলে পরিবারের হাল ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তায় এবং একটি বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তির বদৌলতে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর সংসার চলে স্ত্রী হাবিবা বেগমের উপার্জনে। হাবিবা একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত থাকলেও তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। বর্তমানে হাবিবার মাসিক আট হাজার টাকা বেতনের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল মিজান।
জীবন সংগ্রামের এই কঠিন সময়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন মিজান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদে বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে সেই আবেদনে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগের আবেদন করেছেন তিনি। মিজান জানান, ‘আমি করুণা চাই না, বরং নিজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির দাবি জানাচ্ছি। স্ত্রীও অসুস্থ, তাই আয় না থাকলে আমাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’
মিজানের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন। তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তিহীন হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করা মিজানের অদম্য সাহসের পরিচয়। এমন যোগ্য যুবকের কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যথাযথ সুপারিশ করবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। সাত ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের একমাত্র স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই যুবক এখন কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেও পড়াশোনা থামাননি জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া (২৫)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২৩ সালে স্নাতক এবং ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৩ সালে বিয়ে করেন হাবিবা বেগমকে।
















