ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে ইতিহাস গড়েছেন সোবহানা মোস্তারি। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করে তিনি হাঁকিয়েছেন শতক। এটি কেবল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটারের প্রথম সেঞ্চুরিই নয়, বরং ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ার দিনটিরও সাক্ষী হয়ে রইল এই ইনিংস। পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ২২০ রান, যা এর আগের ছয় দেখায় কখনোই সম্ভব হয়নি। অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের বলটা কোনোরকমে ঠেকিয়ে দিলেন সোবহানা মোস্তারি। পপিং ক্রিজ ছুঁয়েও দৌড়ে গেলেন আরও অনেকটা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল চরম বিপর্যয়কর। মাত্র ৮ রান তুলতেই ইনিংসের ৭.২ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। সেখান থেকেই হাল ধরেন সোবহানা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৬৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন সোবহানা। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন নিগার, যিনি ১১৪ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন। এই জুটিতেই বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরে এবং তিন অঙ্কের কোটা পার করে।
একপর্যায়ে ১২৪ বলে সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন সোবহানা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তিন অঙ্কের দেখা পেলেন তিনি; এর আগে ফারজানা হক দুইবার এবং নিগার সুলতানা একবার এই কীর্তি গড়েছিলেন। সব মিলিয়ে ১৩৪ বলে ১৮টি চার মেরে ১১৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন সোবহানা। শেষ পর্যন্ত ম্যাগান স্কটের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে নিগারের সাথে তিনি গড়েছেন ২৪৩ বলে ১৯৫ রানের এক বিশাল জুটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা অষ্টম ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি। পরে ১২৪ বলে নিজের সেঞ্চুরিও পেয়ে যান সোবহানা। ১৩৪ বলে ১৮ চারের ইনিংসে ১১৮ রানে ম্যাগান স্কটের বলে বোল্ড হয়ে আউট হয়েছেন সোবহানা।
এর আগে চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ১৫৩ রান। এবার অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে সোবহানার এই সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ব্যাটিং ইতিহাসে নতুন প্রেরণা হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে আগস্টে ছেলেদের দলের তানজিদ হাসান ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা ছিল বাংলাদেশি কোনো ব্যাটারের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরির নজির। আজ সোবহানা সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন নারী ক্রিকেটে।
















