প্রখ্যাত কোরীয় রক ব্যান্ড জাউরিমের ভোকালিস্ট কিম ইউন-আহ নিজের শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি ইবিএসের তথ্যচিত্র সিরিজ ‘সিদায়ে মোকগিয়ক’-এর একটি পর্বে তিনি জানান, ছোটবেলায় তাঁর বাবা নিয়মিত তাঁদের ওপর সহিংস আচরণ করতেন। এমনকি পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি। কিমের কথায়, সেই সময়ে তিনি সবসময় এক তীব্র আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতেন, যেন যেকোনো মুহূর্তে কোনো বিপত্তি ঘটে যাবে। শৈশবে তিনি সবসময় নিজেকে একধরনের ঘোরের মধ্যে রাখতেন এবং পড়াশোনা ও গানের ভেতরেই সান্ত্বনা খুঁজতেন। যেকোনো মুহূর্তে কিছু একটা ঘটে যেতে পারে—এমন ভয় নিয়েই দিন কাটত। কখন কী ঘটবে, তা বুঝতে পারতেন না তিনি। আলোচিত কোরীয় গায়িকা তিনি, তাঁকে কতটা চেনেন। আমাদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই তাঁর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের অনেক স্মৃতিই এখন আর মনে করতে পারেন না কিম। তিনি জানান, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন বাসন ধোয়ার পর সাবান ঠিকমতো না ধোয়ায় বাবা তাঁকে মারধর করেছিলেন। ছোটবেলায় ঘরের কাজে ভুল হওয়া স্বাভাবিক হলেও, তিনি তখন নিজের ওপরই সব দায় চাপাতেন। বাবার সহিংসতার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা সময় থাকত না, ফলে সারাক্ষণ এক অনিশ্চিত ভয়ের মধ্যে থাকতে হতো। এর আগে ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি চ্যানেল এ-এর অনুষ্ঠান ‘ড. ওহস গোল্ডেন ক্লিনিক’-এ কিম জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা কাঠমিস্ত্রির দোকান থেকে নানা আকৃতির কাঠের লাঠি বানিয়ে আনতেন নির্যাতনের জন্য। বয়স কম হওয়ায় ঘরের কাজ ঠিকঠাক করতে না পারাটাই স্বাভাবিক ছিল।
কিম আরও বলেন, ‘আমার জন্মদাতা বাবা অত্যন্ত সহিংস ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল, এই মানুষটিকে ঘৃণা করেই তো আমি গান তৈরি করেছি, এখন কী গল্প বলব?’ মূলত এই তিক্ত অভিজ্ঞতা ও ঘৃণাই একসময় তাঁর সংগীতচর্চার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। ১৯৯৭ সালে জাউরিমের প্রথম অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন কিম। এরপর ব্যান্ডটির ‘ফলিং ফ্লাওয়ার’, ‘ম্যাজিক কার্পেট রাইড’, ‘সং অব হা হা হা’ ও ‘টুয়েন্টি-ফাইভ, টুয়েন্টি-ওয়ান’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
















