নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান, যিনি স্থানীয়দের কাছে সুখচাঁন নামে পরিচিত, পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। সৌদিপ্রবাসী মেজ জামাতা ছুটিতে দেশে আসায় তিনি তাঁর তিন মেয়ের পরিবারকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দাওয়াত খেয়ে শুক্রবার বিকেলে পরিবারের ছয় সদস্য বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন। সেখানে পাঁচজন পানির স্রোতে তলিয়ে যান। শিশুসন্তানসহ মেজ মেয়েকে স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের সৌদিপ্রবাসী ওবায়দুল্লাহ (৩৮), কাপাসিয়ার শান্তা আক্তার (২৫) এবং স্থানীয় তরুণ সৌরভ মিয়া (১৮)। ঘটনার সময় স্রোতে ডুবে যাওয়া অন্যদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন সৌরভ। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই উদ্ধার হওয়া তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোহিনুর মিয়া জানান, নিখোঁজ একজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
সুখচাঁনের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। বড় মেয়ে আগে অসুখে মারা যাওয়ার পর তাঁর একমাত্র ছেলে শান্ত (২৪) কে পরম যত্নে মানুষ করেছিলেন তিনি। মাস্টার্স শেষ করে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা সেই শান্তও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যদের নদীতে না যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন সুখচাঁন, কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কেউ শোনেনি। নিজের চোখের সামনে তিনজনকে হারিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত সুখচাঁন এখন দিশেহারা।
ঘটনার ধারাবাহিকতা ও উদ্ধার কার্যক্রমের তথ্য নিচে দেওয়া হলো
- শুক্রবার বিকেলে পাঁচজন নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন চারজন। ঘটনার পরদিন শনিবার সকাল ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ ও সৌরভের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
- ঘটনার ৪৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত শান্ত নামে ওই তরুণের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
- দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শান্তা আক্তারের মরদেহ ভেসে ওঠে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মিন্টু মিয়া জানান, অত্যন্ত সংগ্রামী জীবন পার করা সুখচাঁন তাঁর তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শীতলক্ষ্যার এই ট্র্যাজেডি পুরো পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দোচালা টিনের ঘরে বসবাসকারী সুখচাঁন এখন একমাত্র নাতির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যদিও সময়ের সঙ্গে সেই আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়ি থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই নদীতে গোসলে নেমে ছোট মেয়ে, মেজ মেয়ের স্বামী ও বড় মেয়ের ছেলেকে হারিয়ে বিপর্যস্ত সুখচাঁন শোকে পাথর হয়ে গেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শত শত স্থানীয় লোক, প্রতিবেশী ও স্বজনেরা দুঃসময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছোট জামাতার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর কখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে স্বামী-সন্তান নিয়ে মেজ মেয়ে শাহীনুর চলে আসেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুমার নামাজের পর সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুখচাঁন বলেন, ‘এত কইরা কইলাম, নদীত যাওয়ার দরকার নাই, অন্য কোনোখান থাইক্যা ঘুইরা আসো।
















