রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এই রায় প্রদান করেন। আদালতের পেশকার সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডিত আসামিদের প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ। রায় অনুযায়ী, শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত সেক্টর-১-এর ৪০৫ নম্বর সড়কের ১১ ও ১৩ নম্বর প্লট দুটি বাতিলের পাশাপাশি তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সাবেক ছয় রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি ধারায় তাদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও একই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের অনুকূলে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার দুটি প্লট নিয়মবহির্ভূতভাবে বরাদ্দ দেন। এই দুর্নীতির ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দুদকের তদন্তে উঠে আসে। মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এজাহার থেকে জানা গেছে, পূর্বাচলে ২০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক।















