Tuesday , 15 September 2026 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জনপ্রিয়
  5. জাতীয়
  6. দুর্যোগ
  7. দেশের খবর
  8. বাণিজ্য
  9. বিনোদন
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন জরুরি

প্রতিবেদক

September 15, 2026 8:32 am

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু একজন বিচারকের পক্ষপাতহীন বা ভয়মুক্ত থেকে মামলার রায় দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই স্বাধীনতাকে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই করতে হলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার বিভাগের নিজস্ব শক্তিশালী কাঠামো, পর্যাপ্ত সক্ষমতা এবং পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন থাকা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আইন বক্তৃতায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের আয়োজনে এই বক্তৃতা অনুষ্ঠানে ‘বিয়ন্ড জুডিশিয়াল ইনডিপেনডেন্টস: কনস্টিটিউশনাল আইডেনটিটি অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর ইনস্টিটিউশনাল অটোনমি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বক্তৃতায় সৈয়দ রেফাত আহমেদ বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের নানা পর্যায়, বিচার বিভাগীয় সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মৌলিক শর্ত। তবে কেবল বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকলেই তা যথেষ্ট নয়; বরং সেই স্বাধীনতা ধরে রাখার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন বিচার বিভাগের থাকতে হবে।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বিচারক ও বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য স্পষ্ট করে বলেন, একজন বিচারক ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীন হতে পারেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত না-ও হতে পারে। যদি বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া অন্য কোনো সংস্থার ওপর নির্ভরশীল হয় কিংবা আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বিচার বিভাগকে অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় অঙ্গের মুখাপেক্ষী হতে হয়, তবে সেই স্বাধীনতা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট নয়।

তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, এটি এমন এক কর্তৃত্ব ও বাস্তব সক্ষমতা, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগ নিজস্ব বিচারিক ক্ষমতার প্রয়োগ ও সংরক্ষণ সম্পর্কিত বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই স্বায়ত্তশাসনকে কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতা বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে ওঠা হিসেবে দেখা যাবে না। বিচার বিভাগকে অবশ্যই আইনের কাছে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক থাকতে হবে, রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে নয়।

বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকটগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে সাংবিধানিক আদর্শের অভাব কখনোই ছিল না, বরং ঘাটতি ছিল এসব আদর্শকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো স্বাধীন ও দৃঢ় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে তিনি ‘সাংবিধানিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ওই সময় সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার মধ্যকার দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছিল। এ অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা হলো, এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যাতে ক্ষমতা প্রয়োগকারী ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দের ওপর সাংবিধানিক মূল্যবোধ নির্ভরশীল না থাকে।

সৈয়দ রেফাত আহমেদ তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, বিচার বিভাগকে অর্থবহ স্বাধীনতা দিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়, বরং বিচারিক স্বাধীনতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। তিনি আরও বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বৈধতা টিকিয়ে রাখতে নিয়োগপ্রক্রিয়া হতে হবে মেধা, সততা ও স্বচ্ছতার মানদণ্ডে, কোনো ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়।

সংস্কারের স্থায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো সংস্কার যদি কেবল নির্দিষ্ট সংস্কারকের মেয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সেটি প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নয়। রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানকে বারবার নতুন করে সাজানো যায় না; রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যেন ব্যবস্থা টিকে থাকে, সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের স্মৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিকীকরণের ফলে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক স্মৃতি ও ঐতিহ্য হারিয়ে যায়, যা কাম্য নয়।

বক্তৃতার শেষে তিনি বলেন, সাংবিধানিকতার স্থায়িত্ব কেবল আদর্শ ঘোষণার ওপর নির্ভর করে না, বরং সেই আদর্শ সংরক্ষণে সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপরই এর সাফল্য নির্ভর করে। তার ভাষ্যমতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বার্তা দেয়, আর প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন সেই সুরক্ষাকে টেকসই করার পথ দেখায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাবেক প্রধান বিচারপতির মতে, ২০২৪ সালের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে যে রাজনৈতিক বৈধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা সব সময় এক বিষয় নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সংস্কার-অভিজ্ঞতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো কীভাবে ভিন্নভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায়, যাতে ক্ষমতাই সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের অধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ধৈর্য, ধারাবাহিকতা, নিয়ম, সংযম, স্মৃতি এবং সর্বোপরি এই গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন, কখনো কখনো একটি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা পাওয়া ব্যক্তিকেও ‘না’ বলতে হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর ভাষ্য, স্বাধীনতা কখনো অদক্ষতা, দুর্নীতি বা স্বেচ্ছাচারী প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের ঢাল হতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মাধ্যমে এমন একটি ‘শুভচক্র’ তৈরি হবে, যা নিজেই নিজের স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, একটি রাষ্ট্রকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন করে গড়ে তোলা যায় না।

সর্বশেষ - Uncategorized

আপনার জন্য নির্বাচিত

বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব: বছরে অকালমৃত্যু প্রায় ১৭ লাখ মানুষের

কাপ্তাই লেকের পানির স্তর বৃদ্ধি: আবারও খোলা হলো বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট

জাতিসংঘে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে উচ্চপর্যায়ের সভা

আগামী বছর হজের খরচ আরও কমানোর প্রতিশ্রুতি ধর্মমন্ত্রীর

নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: রুহুল কবির রিজভী

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ: নিরাপত্তা জোরদারে স্পেনের সাথে কাতারের কৌশলগত চুক্তি

সিপিএলে মিরাজের ঘূর্ণি ও নাগিন ড্যান্স: গায়ানার শততম জয়

সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও তৃণমূল গোছাতে জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে দিল্লির সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ঢাকা

দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে আলোচনায় চীনা রিফাইনার