ফ্যাশন দুনিয়ায় বর্তমানে চুলের সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে বেণি। আগে কেবল সাধারণ এক বা দুই বেণির চল থাকলেও বর্তমানে ফ্রেঞ্চ, ডাচ, ফিশটেইল, ক্রাউন কিংবা বোহো স্টাইলের মতো আধুনিক রূপান্তরগুলো তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বেণি কেবল চুল সাজানোর উপায় নয়, বরং এটি সংস্কৃতি ও আভিজাত্যের প্রতীক। প্রাচীন আফ্রিকা থেকে মিসর কিংবা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির তেল-চকচকে ঘন কালো চুলের তিন ফালির বিনুনি—সবখানেই বেণির বিশেষ অবস্থান রয়েছে। পাশ্চাত্যের আধুনিক টেক্সচারের সঙ্গে প্রাচ্যের ঐতিহ্য মিলিয়ে বেণি এখন হয়ে উঠেছে নস্টালজিক ও ট্রেন্ডি স্টাইল স্টেটমেন্টের অংশ। প্রাচীন আফ্রিকার কর্নরো হেয়ার স্টাইল কিংবা বক্স ব্রেইডের খাঁজে জড়িয়ে থাকত গোত্রপরিচয় ও সামাজিক মর্যাদার চিহ্ন। আর প্রাচীন মিসর ও রোমের অভিজাত নারীদের কাছে মুকুটের মতো পেঁচিয়ে রাখা জটিল বিন্যাসের বেণি ছিল ক্ষমতার প্রতীক। আমাদের বাংলায় বেণিরও আছে এক চিরায়ত রূপ।
যেকোনো স্টাইলের ক্ষেত্রে মুখের গড়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিম্বাকৃতি বা ওভাল চেহারার অধিকারীরা সব ধরনের বেণি অনায়াসে গ্রহণ করতে পারেন। তবে চারকোনা মুখের ক্ষেত্রে কাঁধের একপাশে নামিয়ে রাখা সাইড ফ্রেঞ্চ ব্রেইড চোয়ালের তীক্ষ্ণতাকে নরম ও কমনীয় করে তোলে। অন্যদিকে, গোল বা পানপাতা আকৃতির মুখের জন্য মাথার ওপর মুকুটের মতো করে বাঁধা ‘ক্রাউন ব্রেইড’ বেশ কার্যকর, কারণ এটি মুখকে কিছুটা লম্বাটে ও ধারালো দেখাতে সাহায্য করে। লম্বাটে চেহারার সঙ্গে টুইস্টেড স্পেস বান বা দুই পাশে ঢিলেঢালা বোহো বেণি দারুণ ভারসাম্য তৈরি করে। ডিম্বাকৃতি বা ওভাল চেহারায় সব ধরনের বেণিই মানিয়ে যায়।
অনুষ্ঠান ও পোশাকের ধরন অনুযায়ী বেণির উপস্থাপনায় ভিন্নতা আনলে সাজে নতুন মাত্রা যোগ হয়। বিয়ের মতো জমকালো অনুষ্ঠানে জামদানি বা বেনারসির সঙ্গে মাথার ওপরে ক্রাউন আপডু, উইংড আইলাইনার এবং গাঢ় লিপস্টিক এক রাজকীয় আবহ তৈরি করে। উৎসবের দিনে সাধারণ সুতি বা শিফন শাড়ির সঙ্গে কাঁধের একপাশে ফ্রেঞ্চ বেণি, ছোট টিপ ও স্নিগ্ধ মেকআপ এক ক্ল্যাসিক রূপ ফুটিয়ে তোলে। এছাড়া বন্ধুদের আড্ডা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাজুয়াল পোশাকের সাথে ডাচ পিগটেইলস বা বোহো বান আধুনিক ও সাবলীল দেখায়।
ফ্যাশনের বাইরেও বেণির রয়েছে নানাবিধ ব্যবহারিক সুবিধা। বিশেষ করে গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল ঘাম ও জটমুক্ত রাখতে বেণির কোনো তুলনা হয় না। প্রতিদিনের রোদ, ধুলাবালু ও বাতাসের ক্ষতি থেকে চুলকে সুরক্ষিত রাখতেও এটি সহায়ক। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে চুলে হালকা বেণি করে রাখলে কোনো বাড়তি স্টাইলিং ছাড়াই সকালে প্রাকৃতিকভাবে ঢেউখেলানো বা সফট ওয়েভ লুক পাওয়া সম্ভব। আভিজাত্য, সুরক্ষা এবং সমকালীন ফ্যাশনের চমৎকার এক মেলবন্ধন হলো বেণি, যা আজও তার আবেদন ধরে রেখেছে।
















