জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান ইমাম হাসানকে (তাইম) নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ কার্যক্রম শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতের সামনে ঘটনার দিনের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ওই সময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো কথা পর্যন্ত বলেনি। এরপরও পুলিশ তাইমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এমনকি আহত তাইমকে উদ্ধার করতে আসা ব্যক্তিকে দেখামাত্রই পুলিশ গুলি করে, যার ফলে তিনি জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী-সেতুর কাছে পুলিশি গুলিতে নারায়ণগঞ্জ সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমাম হাসান প্রাণ হারান। তারপর সেই ব্যক্তি তাইমকে রেখে প্রাণভয়ে দৌড় দেন।
যুক্তিতর্কের সময় ওয়ারী বিভাগের তৎকালীন উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশন জানায়, ওই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মুঠোফোনে ভিডিও দেখিয়ে ইকবাল বলছিলেন, “গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না।” প্রসিকিউটরের ভাষ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ইকবাল সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন এবং তিনি এই নারকীয় তাণ্ডব বন্ধের কোনো উদ্যোগই নেননি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশনা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। হত্যা বন্ধ করার জন্য কোনো চেষ্টা ইকবাল করেননি।
মামলাটিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা দুই জন হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। পলাতক রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, মো. মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক এবং উপপরিদর্শক সাজ্জাদ উজ জামান। এই মামলার ১১ আসামির মধ্যে ৯ জন পলাতক।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত এই মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।














