জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অপর দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আসামিরা পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত অপর ছয়জন হলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও ওয়ালি আসিফ ইনান। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোরভাবে দমনে এই নেতারা সরাসরি প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এছাড়া গোপন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, নেতাকর্মীদের অস্ত্র হাতে রাজপথে নামার নির্দেশ প্রদান এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মতো অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
২০২৫ সালের ১৮ জুন এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিলে ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই বিচারে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগের জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ১২৩টি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রদর্শিত হয়েছে।
গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ৪ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। টানা নয় কার্যদিবস শুনানির পর ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণার মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একাধিক গোপন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, নেতাকর্মীদের অস্ত্রসহ রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্ত থেকে রায়: বিচারিক পথপরিক্রমা তদন্ত ও চার্জদাখিল: ২০২৫ সালের ১৮ জুন মামলার তদন্ত শুরু হয়ে ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা পড়ে। চাকরির আরও তথ্য: ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন দাখিল হলে আদালত তা আমলে নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিচার প্রক্রিয়া: আসামিরা পলাতক থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ১২৩ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রদর্শন করা হয়।















