জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলার ঘাটতি দূর করা, দুর্নীতি বন্ধ এবং কাজের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ২৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সচিবদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনাগুলো চূড়ান্ত করা হয়। ওই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অন্তত ৬১ জন সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল সচিব পর্যায়ের প্রথম বৈঠক এবং সরকারের প্রথম কোনো সমন্বিত প্রশাসনিক নির্দেশনা। তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কাজের গতি ধীর।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী পদোন্নতি, বদলি বা চাকরির অন্য কোনো সুবিধার জন্য তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর বা তদবির করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় এ ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদবিরের চেষ্টার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিতে যুক্ত করা হবে। রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি চালান অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল। যুক্তরাজ্যে বিমানঘাঁটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার ৫ জন জামিনে মুক্ত, বিস্মিত ট্রাম্প।
প্রশাসনিক দক্ষতা ও কাজের স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই কর্মকর্তা যাতে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার মাধ্যমে বারবার সরকারি সফরে বিদেশ ভ্রমণে না যান, সে বিষয়েও সচিবদের নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের পেশাগত পরিকল্পনা তৈরির সুবিধার্থে ক্যাডার পদগুলোর সঠিক হিসাব রাখতে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর নিজ দপ্তরের অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের ৪০ শতাংশ পদ শূন্য / স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার পদে দ্রুত নিয়োগে সরকারের উদ্যোগ। ঢাকায় মনোরেল চালুর পথে সরকারের প্রথম উদ্যোগ।
সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সব সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ জন্য আইসিটি বিভাগকে একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সব সরকারি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো এবং বিদ্যুতের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধে প্রতি দুই মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিভাগে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তাহলে ছয় বা সাত মাস পর এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা যেত।’।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সব সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারদের মাধ্যমে প্রতি ১৫ দিন অন্তর সচিবালয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (সিসিজিপি) প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরই প্রস্তাব পাঠাতে হবে এবং পিপিআর, ২০২৫-এর তফসিল-৭ অনুসরণ করে সভার অন্তত চার কার্যদিবস আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে।
আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তর বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে জমি বা আইনি বিরোধ থাকলে তা মামলা-মোকদ্দমায় না জড়িয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করতে বলা হয়েছে। আসল বিষয় হলো সেগুলো বাস্তবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, আর না হলে কেন হচ্ছে না—সেই তদারকিটা খুব জরুরি।
নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নির্দেশনার কার্যকারিতা পুরোপুরি নির্ভর করছে সঠিক তদারকি ও বাস্তবায়নের ওপর। বিষয়টির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব জানান, শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই নির্দেশনাগুলো কাগজে-কলমে চমৎকার। তবে এগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও লেখক ফিরোজ মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন সরকার গঠনের পরপরই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। প্রশাসন এখন ধীরগতিতে চলছে, তাই এই নির্দেশনাগুলোকে যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রাখা না হয়। তিনি মনে করেন, অতীতের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
















