জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের নিট পোশাক শিল্প চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, চলমান এই সংকটের প্রভাবে প্রায় ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানার আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ কমেছে কিংবা ব্র্যান্ডগুলো তাদের অর্ডার বাতিল করেছে।
চলতি বছরের ২১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও অন্যান্য এলাকার সদস্য কারখানাগুলোর ২০ শতাংশের ওপর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপের তথ্যমতে, অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোর মধ্যে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশ নারায়ণগঞ্জের, ২০ শতাংশ গাজীপুরের, ১৮ শতাংশ চট্টগ্রামের, ১৩ শতাংশ ঢাকার এবং বাকি ৩ শতাংশ অন্যান্য এলাকার।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ৮৭ শতাংশ কারখানা ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানা ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতিকে কারখানাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাস সংকটে এবং ১৪ শতাংশ অন্যান্য উপকরণের ঘাটতিতে ভুগছে। গ্যাস সংকটে থাকা কারখানাগুলোর তথ্যানুযায়ী, স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ গড়ে ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া লোডশেডিংয়ের হার আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
উৎপাদনের ওপর এই সংকটের প্রভাব পড়েছে মারাত্মক। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নিট কাপড় বোনার উৎপাদন গড়ে ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে কাপড় রং করার উৎপাদন ৫১ শতাংশ এবং পোশাক সেলাইয়ের উৎপাদন ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
জ্বালানি ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ফলে ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়তি খরচ বহন করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রায় ৫৯ শতাংশ কারখানা ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া ৮৯ শতাংশ কারখানা ক্রেতাদের আস্থা হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং ৭ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, পোশাক শিল্প এখন অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও অনেক কারখানা কোনোমতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে, তবুও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি দ্রুত কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রদান করে, তবেই এই শিল্প খাতের চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পবিত্র মক্কার দিকে ড্রোন ছোড়ায় ওআইসির নিন্দা, তুরস্ক চুপ, যা বলল পাকিস্তান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম সচিব সভায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধরলায় নৌকাবাইচ, উচ্ছ্বাসে মুখর নদীতীর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে বলা হয়, এই সংকটের কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সরকার উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা দিলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতিও ছিল আশঙ্কাজনক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব বিপত্তির সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে।
















