শেখ শহিদুর রহমান পাভেল : কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা থেকে ১২ বছরের কিশোরী আয়েশা আক্তার অপহরণের ১২ দিন পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯/০৬/২০২৬ ইং সকাল আনুমানিক ১:০ ঘটিকায় কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার (১২) বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বর্না বেগম বাদী হয়ে ২১/০৬/২০২৬ তারিখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ আবির (২৩) তার মেয়েকে ইভটিজিং ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মো:আরিফ মো: আবির, সহায়তায় ফুসলাইয়া বিয়ের প্রলোভনে রাস্তা থেকে আয়েশাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, জাল জন্ম নিবন্ধন [২০০৭ সালের] বানিয়ে নাবালিকা আয়েশাকে জোরপূর্বক আবিরের সাথে বিয়ে দেয়। কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার ও প্রকৃত জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী আয়েশার বয়স মাত্র ১২ বছর। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই আরিফুজ্জামান মিয়া। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রযুক্তির সহায়তায় ০১/০৭/২০২৬ ইং তারিখে মানিকনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত কিশোরী আয়েশা আক্তারকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। উক্ত উদ্ধার অভিযান ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও তদারকিতে পরিচালিত হয়। পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, “একজন নারী হিসেবে সন্তান হারানোর বেদনা উপলব্ধি করেন। তাই নাবালিকা উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। উদ্ধারের খবরে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। ভিকটিমেরা পরিবার ও এলাকাবাসী পুলিশ সুপার ও এসআই আরিফুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি অপহরণকারীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
