ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে ইসরায়েলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। বুধবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে। যুদ্ধে ঘরবাড়ি হারানো বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ছয়টি পরিবারের সদস্যরা আটকা পড়ে আছেন এবং সেখানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থলে তৎপর বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মীদের বরাতে আল-জাজিরা জানায়, ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে বর্তমানে প্রায় ১০০ জন আটকা পড়ে আছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনই শিশু। গাজার গণমাধ্যম দপ্তরের বিবৃতিতে এই ঘটনার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে বলা হয়েছে, এই বিপর্যয় অঞ্চলটিতে মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপত্যকাটি চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ পরিচালিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে গাজার মোট আবাসিক ভবনের ৯২ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি এখন অস্থায়ী তাঁবু বা আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের ভয়াবহতায় পুরো গাজা পুনর্গঠন করতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভবনেই থাকতেন যুদ্ধে ঘরবাড়ি হারানো অসহায় ফিলিস্তিনিরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজার গণমাধ্যম দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ ঘটনার জন্য আমরা দখলদার পক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুরোপুরি দায়ী করছি।















